শক্তিশালী প্রবৃদ্ধিতে বেড়েছে এমএস অ্যামলিনের মুনাফা

আন্তর্জাতিক বীমা ও পুনর্বীমা প্রতিষ্ঠান MS Amlin ২০২৫ অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য আর্থিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। শক্তিশালী প্রিমিয়াম বৃদ্ধি, আন্ডাররাইটিং কার্যক্রমে উন্নতি এবং আর্থিক ফলাফলের ইতিবাচক অবস্থানের কারণে প্রতিষ্ঠানটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত IFRS 17 আর্থিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে এমএস অ্যামলিনের কর-পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ২৬৮ মিলিয়ন পাউন্ডে। আগের অর্থবছরে এই মুনাফা ছিল ১৭৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার বা ১৪৯ মিলিয়ন পাউন্ড। ফলে এক বছরের ব্যবধানে নিট মুনাফা বেড়েছে ৭৯ দশমিক ৯ শতাংশ।

একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির বীমা সেবা-সংক্রান্ত মুনাফাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে বীমা সেবা মুনাফা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫৭ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরে ছিল ২৫০ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি নিট আর্থিক ফলাফলও উন্নত হয়েছে। এ খাতে আয় বেড়ে ৭৪ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যেখানে আগের বছর তা ছিল ৫৭ দশমিক শূন্য ৪ মিলিয়ন ডলার।

প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সক্ষমতা মূল্যায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক ‘কম্বাইন্ড রেশিও’ ২০২৫ সালে আরও উন্নত হয়েছে। এই হার ৮৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের বছরে ছিল ৮৬ দশমিক ২ শতাংশ। সাধারণত কম্বাইন্ড রেশিও ১০০ শতাংশের নিচে থাকলে তা বীমা কার্যক্রম থেকে লাভজনক পরিচালনার ইঙ্গিত দেয়। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, দাবি পরিশোধ ও পরিচালন ব্যয়ের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটির আন্ডাররাইটিং কার্যক্রম থেকে আয় বেশি হয়েছে।

একই সময়ে ব্যয় অনুপাত বা এক্সপেন্স রেশিও প্রায় স্থিতিশীল ছিল। ২০২৫ সালে এই হার ছিল ৩৭ দশমিক ৩ শতাংশ, যেখানে আগের বছরে ছিল ৩৭ শতাংশ। অর্থাৎ পরিচালন ব্যয়ের ওপর প্রতিষ্ঠানটি তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত অবস্থান বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমএস অ্যামলিনের নিট লিখিত প্রিমিয়াম ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আগের বছরের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা সম্প্রসারণ, বাজারে অবস্থান শক্তিশালী হওয়া এবং আন্ডাররাইটিং কার্যক্রমে ইতিবাচক গতিধারার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিট অর্জিত প্রিমিয়ামও ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

এমএস অ্যামলিন জানিয়েছে, আন্ডাররাইটিং সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে তারা নতুন একটি লয়েডস সাব-সিন্ডিকেট ‘s1673’ চালু করেছে। এই সাব-সিন্ডিকেটের আওতায় আন্ডাররাইট হওয়া ঝুঁকিগুলো পরবর্তীতে সিন্ডিকেট ২০০১-এর সঙ্গে একীভূত করা হবে। লন্ডনের লয়েডস বাজারে সিন্ডিকেট কাঠামো আন্তর্জাতিক বীমা ও পুনর্বীমা শিল্পে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং বিশেষায়িত বীমা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অধিকাংশ আন্ডাররাইটিং খাতে ইতিবাচক বাণিজ্যিক কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। পাশাপাশি বাজারের কিছু অংশে প্রিমিয়াম রেটের পরিবর্তনও তাদের আর্থিক ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। বীমা বাজারে প্রিমিয়াম রেটের ওঠানামা সাধারণত ঝুঁকির মাত্রা, প্রতিযোগিতা এবং পুনর্বীমা ব্যয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আর্থিক ফলাফলের মধ্যে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ক্ষতির ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে সংঘটিত দাবানল উল্লেখযোগ্য। বড় ধরনের দুর্যোগজনিত ক্ষয়ক্ষতির চাপ থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি লাভজনকতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

এই আর্থিক ফলাফল IFRS 17 হিসাবমান অনুযায়ী প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এটি MS&AD Insurance Group Holdings-এর অংশ হিসেবে এমএস অ্যামলিনের স্বতন্ত্র কার্যক্রমকে প্রতিফলিত করে। IFRS 17 হলো বীমা খাতের জন্য আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান, যা বীমা চুক্তির আয়, দায় ও মুনাফা মূল্যায়নে অধিক স্বচ্ছতা ও তুলনামূলক সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে এমএসঅ্যান্ডএডি জানিয়েছে, আগামী সময়ে বীমা রাজস্ব মোটামুটি স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে বাজারে প্রিমিয়াম রেট কিছুটা নমনীয় হওয়ার সম্ভাবনা এবং দুর্যোগজনিত ক্ষয়ক্ষতি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসার কারণে সমন্বিত মুনাফা তুলনামূলক কম হতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটি ধারণা করছে।