রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে রংপুর বিভাগজুড়ে নতুন রোগী শনাক্তের সংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
মৃত শিশুটির নাম মনি আক্তার (৯ মাস)। তিনি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মাহাবুব আলমের মেয়ে। শনিবার রাতে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল–এর শিশু ওয়ার্ডের আইসোলেশন বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আ ন ম তানভীর চৌধুরী (নোমান) রোববার (১৭ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শিশুটিকে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি করা হয়েছিল এবং অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
এ নিয়ে একই হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে। বর্তমানে হাসপাতালের তথ্যমতে, রোববার সকাল পর্যন্ত ২৭ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ২৫৮ জন শিশু এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে, যাদের মধ্যে ২১৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য তিনটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু রাখা হয়েছে এবং বিশেষ নজরদারিতে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
অন্যদিকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগে নতুন করে ২৩ জন হামের উপসর্গযুক্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা নিম্নরূপ—
২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী শনাক্ত (বিভাগভিত্তিক)
| হাসপাতাল | নতুন রোগী |
|---|
| ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতাল | ৫ জন |
| দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল | ৮ জন |
| রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল | ১০ জন |
| মোট | ২৩ জন |
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩০ মার্চ থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত রংপুর বিভাগে মোট ১,১৩৮ জন হামের উপসর্গযুক্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ১,০৬৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৭ জন রোগী।
সামগ্রিক পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ
| সূচক | সংখ্যা |
|---|
| মোট শনাক্ত রোগী | ১,১৩৮ জন |
| সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা | ১,০৬৩ জন |
| বর্তমানে চিকিৎসাধীন | ২৭ জন |
| মোট মৃত্যু (রমেক হাসপাতাল) | ৫ জন |
| মোট ভর্তি রোগী (রমেক হাসপাতাল) | ২৫৮ জন |
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর–এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি পাঁচ সদস্যের বিশেষ মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি, কাশি এবং চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
মন্তব্য