খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ই জুন ২০২৬, ১১:৩৫ পিএম

যশোরের চৌগাছা উপজেলায় আতিয়ার রহমান (৪২) নামের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) এক কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেছে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা। লাশ উদ্ধারের পর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওসমান (৩০) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আজ রবিবার (২১ জুন ২০২৬) আসর নামাযের পর উপজেলার চৌগাছা সদর, সিংহঝুলি ও ধুলিয়ানী ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড়ের একটি খাল থেকে ভাসমান অবস্থায় ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আতিয়ার রহমান চৌগাছা সদর ইউনিয়নের লস্কারপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তার বাবা ছবেদ আলী চৌগাছা সদর ইউনিয়ন বিএনপির একজন কার্যকরী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আতিয়ার রহমান নিজে বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড়ে পাহারাদার বা নিরাপত্তা রক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং একই সঙ্গে বাঁওড়ের পাশে থাকা নিজের একটি গভীর নলকূপের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষি জমিতে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।
পারিবারিক সূত্র ও নিহতের ছোট ভাই রাশেদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আতিয়ার রহমান প্রতিদিন ডিউটি শেষে সকালে বাড়িতে ফিরে আসতেন। তবে আজ রবিবার সকালে তিনি সময়মতো বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এরপর সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। এক পর্যায়ে বিকেল ৫টার দিকে নিহতের ভাতিজা হাসান (২৬) বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড়ে পানি প্রবেশের মূল ক্যানালে কচুরিপানার নিচে একটি লাশ ভাসতে দেখেন।
কাছে গিয়ে লাশটি আতিয়ার রহমানের বলে শনাক্ত করা হয়। এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে চৌগাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে। এই ঘটনার পরপরই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে ফতেপুর গ্রামের হাফিজুরের ছেলে ওসমানকে (৩০) ধরে নিহতের উত্তেজিত স্বজন ও এলাকাবাসী মারধর শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ওসমানকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায়।
নিহতের রাজনৈতিক অবস্থান নিশ্চিত করে চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম জানান, নিহত আতিয়ার রহমান সক্রিয়ভাবে বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে মাঠপর্যায়ে কাজ করতেন। তার বাবাও স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির অন্যতম নির্বাহী সদস্য।
দলীয় নেতৃবৃন্দ এবং পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড়ের ইজারা, নিয়ন্ত্রণ ও পাহারা দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে আতিয়ার রহমানের পরিবারের দীর্ঘ দিন ধরে তীব্র বিরোধ চলে আসছিল। উপজেলা বিএনপির সভাপতি অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ দলীয় লোকজনেরা এর আগেও আতিয়ার রহমানসহ তার পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করেছিল। ওই পুরোনো হামলার ঘটনায় স্থানীয় থানায় একটি নিয়মিত মামলাও দায়ের করা হয়েছিল। এই পূর্বশত্রুতার জের ধরেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পেছনে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। আইনি প্রক্রিয়া মেনে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। আটককৃত সন্দেহভাজন ওসমানকে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও সুরতহাল রিপোর্টে নিহতের শরীরে একাধিক গভীর ও গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে:
ধারালো অস্ত্রের সাহায্যে শ্বাসনালী কেটে ফেলা হয়েছে।
পেটের অংশে গভীর ক্ষত এবং নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যাওয়ার মতো আঘাত রয়েছে।
পিঠের ডান পাশের বগলের নিচে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন বিদ্যমান।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে লস্কারপুর ও বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড় সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বাঁওড়ের পুরোনো বিরোধ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের মূল মোটিভ উদঘাটনে কাজ করছে।
মন্তব্য