খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই জুলাই ২০২৬, ১১:৪৫ পিএম

রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করা কুখ্যাত কিশোর গ্যাং ‘কবজি কাটা’ গ্রুপের এক সক্রিয় সদস্যকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের একটি বিশেষ দল ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে আইনের আওতায় এনেছে। গ্রেপ্তারকৃত ওই যুবকের নাম শহিদুল ইসলাম আপন (২৮)।
আজ রোববার (১২ জুলাই) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত এই গ্যাংটির অন্য সদস্যদের ধরতেও পুলিশের বিশেষ চিরুনি অভিযান চলমান রয়েছে।
সিটিটিসি সূত্রের বরাতে পুলিশ কর্মকর্তা নিয়াজ মেহেদী জানান, গতকাল শনিবার (১১ জুলাই) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে সিটিটিসির সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগের একটি চৌকস আভিধানিক দল মোহাম্মদপুরের শেখেরটেক এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযানে কুখ্যাত ওই গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য আপনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযান চলাকালে আসামির দেহ তল্লাশি করে তার হেফাজত থেকে একটি ধারালো চাপাতি এবং একটি সুইচ-গিয়ার (অটোমেটিক ছুরি) উদ্ধার করা হয়েছে। জনাকীর্ণ এলাকায় সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে ছিনতাই, জিম্মি ও আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে সে এই দেশীয় মারাত্মক অস্ত্রগুলো নিজের কাছে রেখেছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত শহিদুল ইসলাম আপন দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুর, আদাবর ও বেড়িবাঁধ এলাকায় দলবল নিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। তার বিরুদ্ধে ডিএমপির আদাবর থানায় ইতিপূর্বেও একটি অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। জামিনে বেরিয়ে সে কোনো সুধরে না গিয়ে আবারও পুরোনো অপরাধচক্রের সাথে জড়িয়ে পড়ে।
মোহাম্মদপুর এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু গ্যাং কালচার ও ছিনতাইয়ের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় পুলিশ তাদের নজরদারি কয়েক গুণ বাড়িয়েছে। ডিএমপি জানায়, অস্ত্র উদ্ধারের এই ঘটনায় আপনের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তার সাথে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের আস্তানা ও পরিচয় শনাক্ত করতে তাকে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্তব্য