খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই জুলাই ২০২৬, ১১:৫২ পিএম

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ভয়াবহ বন্যা ও দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতায় পানিবন্দী হয়ে পড়া হাজারো মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে বর্তমান সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম। আজ রোববার দুপুরে উপজেলার ৩ নম্বর রায়পুর ইউনিয়নের দোভাষী বাজার এলাকায় বিপন্ন মানুষের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন তিনি। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দেশের সার্বিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে তিনি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নাহিদ ইসলাম সরাসরি বলেন, ‘যে কারণেই হোক, সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না। এখন কার কী দোষ, সেই কাদা ছোড়াছুড়ি করে লাভ নেই; মূল রূঢ় বাস্তব সত্য হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষ চরম কষ্ট পাচ্ছে।’ উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেবল সরকারের ওপর ভরসা করে বসে না থেকে দল-মত নির্বিশেষে দেশের সকল সামর্থ্যবান ব্যক্তি, সচেতন ছাত্রসমাজ ও সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্গতদের পাশে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
ত্রাণ বিতরণকালে তাঁর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফিসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বন্যা ও উপকূলীয় অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং এর বাজেট বরাদ্দের বিষয়টি টেনে আনেন। তিনি বলেন, ‘আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও বাজেট নিয়ে সংসদে বারবার কথা বলছি। কক্সবাজার, পার্বত্য অঞ্চল কিংবা চট্টগ্রামে যখনই অতিবৃষ্টি শুরু হয়, আমরা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদে সোচ্চার হয়েছে। সেই সময় সংশ্লিষ্ট ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে নানা রকম টেকসই ব্যবস্থার কথা বললেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন আমরা মাঠে দেখছি না। এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রী নিজেই স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতা-কর্মীদের নিষ্ক্রিয়তা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় প্রচণ্ড নাখোশ বলে গণমাধ্যমের খবরে দেখা যাচ্ছে। আমরা আশা করব, সরকার আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর উদ্যোগ নেবে।’
আনোয়ারার উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধের বেহাল dasha এবং মাঠপর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসনের চরম উদাসীনতার তীব্র সমালোচনা করেন এই বিরোধী দলীয় হুইপ। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা আগে থেকেই এই অঞ্চলে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। আমরা নিজেরা এসে দেখলাম, দীর্ঘ ৫ থেকে ৭ দিন ধরে এখানে কয়েক শ পরিবার সম্পূর্ণ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অথচ এই সংকটের সময়েও স্থানীয় এমপি কিংবা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কোনো কর্তাব্যক্তিকে দুর্গত এলাকায় দেখা যায়নি। সাধারণ মানুষ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের উল্লেখযোগ্য সাহায্য-সহযোগিতাও পায়নি।’
উপকূলীয় অঞ্চলের বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের ক্ষেত্রে অতীতের ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয় ভুক্তভোগী মানুষের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হলাম যে, ত্রুটিপূর্ণ বেড়িবাঁধের সমস্যার কারণেই বছরের পর বছর ধরে এখানে এই কৃত্রিম বন্যা ও স্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেড়িবাঁধ সংস্কারের নামে বরাদ্দকৃত কোটি কোটি টাকা হরিলুট ও পাচার করা হয়েছে। তবে এবার বাজেটে বেড়িবাঁধের সুরক্ষায় যে টাকা রাখা হয়েছে, তার একটা টাকাও আমরা নতুন করে দুর্নীতি বা লুটপাট হতে দেব না। সংসদে আমরা এই বেড়িবাঁধের অব্যবস্থাপনার কথা অত্যন্ত শক্তভাবে তুলব, যাতে বরাদ্দকৃত জনগণের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় করে দ্রুত ও মানসম্মতভাবে বাঁধের কাজ শেষ করা হয়।’
চট্টগ্রামের পাশাপাশি ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এনসিপির এই শীর্ষ নেতা। তিনি জানান, আনোয়ারার ত্রাণ কার্যক্রম শেষে তাদের পুরো টিম বাঁশখালীসহ দেশের অন্যান্য বন্যাদুর্গত জেলাগুলোতেও নিজেদের সাধ্য ও সক্ষমতা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
ত্রাণ বিতরণকালে স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বন্যাদুর্গত এলাকায় চিকিৎসা, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য জরুরি যেকোনো প্রয়োজনে এনসিপির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য জুবাইরুল আলম মানিক সার্বক্ষণিকভাবে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবেন।
মন্তব্য