খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই জুলাই ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে তরুণ উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপগুলোর জন্য বিশেষ আর্থিক প্রণোদনার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। এখন থেকে নতুন ও সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তারা কোনো ধরনের জামানত ছাড়াই সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন। এর পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী চিন্তানির্ভর ‘স্টার্টআপ’ ব্যবসার প্রসারে মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
রোববার (১২ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের ২৩তম দিনে কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুল আলমের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদের সামনে সরকারের এই দূরদর্শী উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদের এই গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনটি শুরু হয়।
সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র (সিএমএসএমই) খাতের তরুণ ও নতুন উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক মূলধনের জোগান দিতে আগে ১০০ কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু ছিল। নতুনদের উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক এই তহবিলের আকার বাড়িয়ে এখন ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করেছে।
এই বিশেষ তহবিল থেকে নতুন উদ্যোক্তারা কোনো জামানত ছাড়াই ব্যক্তিগত গ্যারান্টির বিপরীতে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন। তবে কোনো উদ্যোক্তার যদি বড় অঙ্কের মূলধনের প্রয়োজন হয় এবং তিনি উপযুক্ত জামানত দিতে পারেন, সে ক্ষেত্রে জামানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা গ্রহণ করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
পাশাপাশি স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি আরও সহজ করার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি সংসদকে অবহিত করেন, স্টার্টআপদের জন্য সম্পূর্ণ আলাদাভাবে ‘স্টার্ট-আপ ফান্ড’ নামে আরও ৫০০ কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে। এই বিশেষ তহবিল থেকে অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে, অর্থাৎ মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে পারবেন নতুন উদ্যোক্তারা।
নতুন স্টার্টআপগুলোর জন্য শুধু ব্যাংক ঋণই নয়, বরং সরাসরি মূলধনী বিনিয়োগের পথও উন্মুক্ত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ উদ্যোগে এবং দেশের ৩৯টি তফসিলি ব্যাংকের যৌথ অংশীদারিত্বে ‘বাংলাদেশ স্টার্ট-আপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি, পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে। এই কোম্পানির মূল লক্ষ্য হলো সম্ভাবনাময় ও নতুন স্টার্টআপগুলোকে সরাসরি ইক্যুইটি সহায়তা বা মূলধনী বিনিয়োগ প্রদান করা, যাতে ঋণের বোঝা ছাড়াই তারা ব্যবসার প্রসার ঘটাতে পারে।
দেশের শিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান ব্যাংকের সফল ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, বিভিন্ন বিষয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন যুবকদের স্বল্প সুদে ঋণ দিতে কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে আগে ১ হাজার কোটি টাকার একটি বড় তহবিল পরিচালিত হচ্ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত এই তহবিলটি নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী ২০২৫ সালের ১৪ জুলাই সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে।
পূর্ববর্তী তহবিলের ব্যাপক সাফল্য ও বিপুল চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার নতুন করে আরও বড় উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। অর্থমন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির এই ধারাকে সচল রাখতে এখন ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার আরও একটি বড় ও নতুন তহবিল গঠনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খুব দ্রুতই এই নতুন তহবিল থেকে যুবকেরা ঋণ সুবিধা পাওয়া শুরু করবেন, যা দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি সচল করতে বড় ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য