খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই মে ২০২৬, ১:৩ পিএম

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশ একটি সুসংহত অবস্থানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মধ্যাহ্নভোজের বিরতি পর্যন্ত স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৩৮০ রান। অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমের দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী দলীয় পুঁজি এখন চারশ রানের মাইলফলক স্পর্শ করার অপেক্ষায় রয়েছে।
Table of Contents
আজ নিজের ৩৯তম জন্মদিনে মাঠে নেমে মুশফিকুর রহিম বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক নতুন উচ্চতায় আরোহণ করেছেন। ব্যক্তিগত ৪২তম বারের মতো টেস্ট ক্রিকেটে পঞ্চাশোর্ধ রানের ইনিংস খেলে তিনি সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ছাড়িয়ে গেছেন। এই ম্যাচ শুরুর আগে তামিম ও মুশফিক উভয়ই ৪১টি পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস নিয়ে যৌথভাবে তালিকার শীর্ষে ছিলেন। আজকের এই অর্জনের মাধ্যমে মুশফিক এখন বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট ফরম্যাটে সবচেয়ে বেশি পঞ্চাশোর্ধ রানের ইনিংস খেলা ব্যাটার। বিরতিতে যাওয়ার আগে তিনি ১৭৬ বলে ৭১ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।
প্রথম দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ৩০১ রান। নাজমুল হোসেন শান্তর রেকর্ড গড়া শতক এবং মুমিনুল হকের ৯১ রানের অনবদ্য ইনিংসের ওপর ভর করে বাংলাদেশ মজবুত ভিত পায়। আজ শনিবার দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে ২৪ ওভার খেলা হয়েছে, যেখানে স্বাগতিক দল ৭৯ রান যোগ করতে সক্ষম হলেও ৩টি মূল্যবান উইকেট হারিয়েছে।
দিনের শুরুতে শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে এক রান নিয়ে মুশফিক তার ২৯তম টেস্ট অর্ধশতক পূর্ণ করেন। অপর প্রান্তে লিটন দাস ইতিবাচকভাবে শুরু করেছিলেন এবং শাহিন আফ্রিদির এক ওভারে টানা তিনটি চার মেরে আক্রমণাত্মক মেজাজ প্রদর্শন করেন। তবে ব্যক্তিগত ৩৩ রানে মুহাম্মদ আব্বাসের বলে ক্যাচ দিয়ে তিনি সাজঘরে ফেরেন। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ১০ রান এবং তাইজুল ইসলাম ১৭ রান করে আউট হন। দুজনই মুহাম্মদ আব্বাসের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন।
| বিষয় | বিবরণ |
| বাংলাদেশের বর্তমান রান | ৩৮০/৭ (১০৪ ওভার শেষে) |
| অপরাজিত ব্যাটার | মুশফিকুর রহিম (৭১*) ও এবাদত হোসেন (০*) |
| প্রথম সেশনে সংগৃহীত রান | ৭৯ রান (৩ উইকেট পতনে) |
| সবচেয়ে সফল বোলার | মুহাম্মদ আব্বাস (৪ উইকেট) |
| সর্বোচ্চ পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস (বাংলাদেশ) | মুশফিকুর রহিম (৪২টি) |
| পরবর্তী লক্ষ্য | ৪০০ রান অতিক্রম করা |
পাকিস্তানি বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করেছেন পেসার মুহাম্মদ আব্বাস। তিনি বাংলাদেশের মিডল ও লোয়ার অর্ডারে আঘাত হেনে মোট ৪টি উইকেট তুলে নিয়েছেন। তার সঠিক লাইন ও লেন্থ বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অন্যদিকে শাহিন শাহ আফ্রিদি ও অন্যান্য বোলাররা প্রথম সেশনে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি।
সিরিজ শুরুর আগে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত প্রথম ইনিংসে চারশ রান করার যে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ এখন সেই লক্ষ্যের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরি পূর্ণ হওয়া এবং লেজকাটা ব্যাটারদের নিয়ে দলীয় সংগ্রহকে চারশ রানের উপরে নিয়ে যাওয়াই এখন বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে উইকেটে মুশফিকের সাথে অপরাজিত আছেন পেসার এবাদত হোসেন। বিরতির পর মুশফিকের শতক এবং দলের বড় পুঁজি নিশ্চিত করাই হবে বাংলাদেশের মূল কৌশল। এই রান পাহাড়ের নিচে পাকিস্তানকে চাপা দিতে পারলে সিরিজের ফলাফল বাংলাদেশের পক্ষে আসার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে।
মন্তব্য