রাজধানী ঢাকার মিরপুরের পল্লবী থানা এলাকায় সাত বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে জোরপূর্বক ধর্ষণের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৯ মে, ২০২৬) সকালে পল্লবী থানা পুলিশ এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডটি পল্লবী থানাধীন সেকশন-১১ এর ব্লক-বি এলাকায় সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার সময় নিহত শিশুর নাম লামিসা এবং তার বাবার নাম আব্দুল হান্নান মোল্লা বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ইতোমধ্যে একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম সোহেল (৩২)। তিনি পেশায় বা পরিচয়ে নিহত শিশুটির পরিবারের পাশের ফ্ল্যাটের একজন বাসিন্দা বা ভাড়াটিয়া ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে যে, অভিযুক্ত সোহেল সাত বছরের ওই নিষ্পাপ কন্যাশিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করার পর অত্যন্ত নির্মমভাবে তার গলা কেটে হত্যা সম্পন্ন করে। এমনকি এই নৃশংস ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি নিহত শিশুর বিচ্ছিন্ন মাথাটি সাথে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত আত্মগোপন বা পালিয়ে যায়। সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে এই ঘটনাটি ঘটার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে কল করে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়।
পল্লবীতে সংঘটিত এই নৃশংস শিশু হত্যা, অপরাধের ধরণ এবং তদন্তের সার্বিক অগ্রগতি নিচে একটি সুনির্দিষ্ট ছকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| হত্যাকাণ্ডের প্রধান সূচক ও বিবরণী | সংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট তথ্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিবরণ |
| হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার স্থান | ব্লক-বি, সেকশন-১১, পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা |
| হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট সময় ও তারিখ | মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ (সকাল আনুমানিক ৯টা) |
| নিহত শিশুর নাম ও বয়স | লামিসা (০৭ বছর) |
| নিহত শিশুর পিতার নাম | আব্দুল হান্নান মোল্লা |
| প্রধান অভিযুক্তের নাম ও বয়স | সোহেল (৩২ বছর, পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া) |
| তদন্তে নিয়োজিত বিশেষ সংস্থাসমূহ | পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি এবং এসবি |
| আইনগত বর্তমান অগ্রগতি | একজনকে আটক করা হয়েছে এবং প্রধান অভিযুক্ত পলাতক |
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই পল্লবী থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয়। ঘটনার গুরুত্ব এবং ভয়াবহতা বিবেচনা করে অপরাধের আলামত সংগ্রহ ও বিশেষায়িত তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং বিশেষ শাখা (এসবি) সহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সদস্যগণও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বিভিন্ন সংস্থার তদন্তকারী কর্মকর্তাগণ বর্তমানে নিবিড়ভাবে অপরাধস্থলের প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম ও বৈজ্ঞানিক আলামত সংগ্রহের প্রক্রিয়া পরিচালনা করছেন।
পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এমদাদুল হক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, জাতীয় জরুরি সেবা থেকে তথ্য পাওয়ার পরপরই পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের কাজ শুরু করে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে, পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল নামের ব্যক্তিটিই এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এই ভয়াবহ অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ নিশ্চিত হতে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ এবং গভীর তদন্ত চলমান রয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত সোহেল বর্তমানে পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পল্লবী থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই স্পর্শকাতর ঘটনায় একটি সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি মামলা দায়েরের পাশাপাশি কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
