খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ই জুলাই ২০২৬, ৪:৫৭ পিএম

বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী মো. আব্দুল রউফ সরকারের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুরের পূবাইল কলেজসংলগ্ন খিলগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক সদস্য, স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উপস্থিতিতে তাকে সমাহিত করা হয়। তার মৃত্যুতে পরিবার, সহযোদ্ধা, আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৩ বছর বয়সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন আব্দুল রউফ। তার মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোক নেমে আসে। দীর্ঘ জীবনে তিনি শুধু পরিবারের একজন অভিভাবক হিসেবেই নয়, মুক্তিযুদ্ধের একজন বীর যোদ্ধা হিসেবেও নিজ এলাকায় পরিচিত ছিলেন। তার চলে যাওয়া পরিবার ও স্বজনদের জন্য যেমন অপূরণীয় ক্ষতি, তেমনি মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত একটি প্রজন্মের আরেকজন মানুষের বিদায় হিসেবেও তা স্মরণীয় হয়ে থাকল।
মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই কন্যা, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। জীবনের দীর্ঘ পথচলায় তিনি পরিবার ও আপনজনদের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। ফলে তার মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে একজন প্রিয় মানুষ ও অভিভাবককে হারানোর বেদনার পাশাপাশি এলাকার মানুষের মধ্যেও শোকের অনুভূতি তৈরি হয়েছে।
মরহুমের ছোট ছেলে আবুবকর সরকার বর্তমানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি একজন বিসিএস কর্মকর্তা। বাবার মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যরা গভীরভাবে শোকাহত। স্বজনেরা জানিয়েছেন, আব্দুল রউফের মৃত্যুতে পরিবারের ওপর যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
মঙ্গলবার বিকেলে জানাজার আগে খিলগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে মরহুমের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা, শুভাকাঙ্ক্ষী ও পরিচিতজনেরা সমবেত হন। পরে সেখানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। জানাজা শেষে পারিবারিক ও স্থানীয় মানুষের উপস্থিতিতে তাকে দাফন করা হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল রউফের মৃত্যুতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। পৃথক শোকবার্তায় তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহমর্মিতা জানান।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি। সেই যুদ্ধে অংশ নেওয়া মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এক ঐতিহাসিক প্রজন্মের প্রতিনিধি। তাদের অনেকেই এখন বয়সের ভারে একে একে চলে যাচ্ছেন। ফলে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু একই সঙ্গে একটি পরিবারের জন্য ব্যক্তিগত শোক এবং জাতীয় ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষীদের একজনকে হারানোর বেদনাও বহন করে।
আব্দুল রউফের ক্ষেত্রেও তার পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সহযোদ্ধা, স্থানীয় বাসিন্দা ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার জীবন ও মুক্তিযুদ্ধের অবদানের কথা স্মরণ করছেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর যারা তাকে চিনতেন, তারা তার স্মৃতিচারণ করে শোক প্রকাশ করেন।
জানাজা ও দাফন শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করা হয়েছে। স্বজনেরা আশা প্রকাশ করেছেন, তার পরিচিতজন, সহযোদ্ধা ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে স্মরণ করবেন এবং তার আত্মার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করবেন।
মন্তব্য