খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ই জুলাই ২০২৬, ৫:২৯ পিএম

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল শেষে স্পেন ও আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। তদন্তের পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং দলের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রোববার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে স্পেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের করা গোলেই জয় নিশ্চিত করে স্পেন।
তবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের উত্তেজনা শেষ বাঁশির পরও থামেনি। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর মাঠে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে একাধিক অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
ম্যাচের পর ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে আর্জেন্টিনার নাহুয়েল মলিনাকে স্পেনের অধিনায়ক রদ্রির দিকে দৌড়ে গিয়ে তাঁর পেটে আঘাত করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে মাঠের মাঝামাঝি অংশে আরেক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেখানে আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারদেস স্পেনের এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাঁকে স্পেনের গাভিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দিতেও দেখা যায়।
বিশৃঙ্খলার মধ্যে আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধেও স্পেনের দানি ওলমোকে লক্ষ্য করে ঘুষি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আয়ালা আঘাত করার জন্য এগিয়ে গেলে এরিক গার্সিয়া হাত দিয়ে তাঁকে সরিয়ে দেন।
ঘটনার সময় ম্যাচের রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি লিয়ান্দ্রো পারদেসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। এর আগে ম্যাচের শেষ দিকে আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজকেও লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। আর্জেন্টিনার আরও তিন খেলোয়াড় এবং প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি হলুদ কার্ড দেখেন।
ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনালের ম্যাচ রিপোর্ট পর্যালোচনার পর ফিফা ডিসিপ্লিনারি কোডের ৩৬ নম্বর ধারার আওতায় একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। ম্যাচ শেষে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং সম্ভাব্য শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়গুলো তিনি পর্যালোচনা করবেন।
তবে ফিফার বিজ্ঞপ্তিতে কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড় বা ঘটনার নাম উল্লেখ করা হয়নি। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সতর্কতা, জরিমানা কিংবা ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটি পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
ফাইনালের ঘটনাই অবশ্য আর্জেন্টিনা দলের বিরুদ্ধে ফিফার একমাত্র তদন্ত নয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে জয়ের পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের উদযাপন নিয়েও তদন্ত চলছে। ওই সময় গ্যালারি থেকে সমর্থকদের দেওয়া ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস’—অর্থাৎ ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’—লেখা একটি রাজনৈতিক ব্যানারকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়।
ফিফার বিধিমালা অনুযায়ী, ফুটবল ম্যাচ ও সংশ্লিষ্ট আয়োজনকে রাজনৈতিক বার্তা প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। তাই সেমিফাইনালের পরের ওই উদযাপনের ঘটনায়ও আর্জেন্টিনার সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় বা দলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্বকাপের মতো বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় মাঠের বাইরের আচরণও এখন শৃঙ্খলাবিধির আওতায় কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। ফলে ফাইনালের পরের সংঘর্ষ এবং রাজনৈতিক ব্যানার—দুই ঘটনায় ফিফার তদন্ত শেষ হওয়ার পর আর্জেন্টিনা দলের জন্য কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
মন্তব্য