মায়ের মৃত্যুর পথে মেয়ের প্রাণহানি দুর্ঘটনায়

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় ঢাকা–খুলনা মহাসড়কে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় রেশমা বেগম (২৫) নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার ভোর আনুমানিক ছয়টার দিকে উপজেলার গোন্দারদিয়া এলাকায় মালেকা চক্ষু হাসপাতালের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ফরিদপুর শহর থেকে একটি প্রাইভেটকার সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার উদ্দেশে রওনা দেয়। গাড়িটিতে রেশমা বেগম, তার স্বামী এবং পাঁচ বছর বয়সী সন্তান ছিলেন। পথিমধ্যে গোন্দারদিয়া এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি ও ভোরের কুয়াশাচ্ছন্ন সড়ক পরিস্থিতির কারণে এই নিয়ন্ত্রণহীনতা সৃষ্টি হয়।

নিয়ন্ত্রণ হারানো প্রাইভেটকারটি মুহূর্তেই সড়কের পাশে থাকা মালেকা চক্ষু হাসপাতালের সীমানা প্রাচীরে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে গাড়ির ভেতরে থাকা যাত্রীদের উদ্ধার কাজে অংশ নেন। স্থানীয়দের পাশাপাশি মধুখালী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম চালান।

গুরুতর আহত অবস্থায় রেশমা বেগমকে দ্রুত মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনায় তার স্বামী ও পাঁচ বছর বয়সী কন্যা সন্তান আহত হলেও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের আশঙ্কামুক্ত বলা হয়েছে।

করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, রেশমা বেগম গাজীপুর থেকে পরিবারের সঙ্গে নিজ বাড়ি সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর গ্রামে যাচ্ছিলেন। তিনি তার মায়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে দ্রুত বাড়ির পথে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু সেই শেষ যাত্রাই তার জীবনের শেষ পরিণতিতে রূপ নেয়।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত প্রাইভেটকারটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পর চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, অতিরিক্ত গতির পাশাপাশি চালকের অসতর্কতা ও ভোরের সময় সড়কের দুর্বল দৃশ্যমানতা দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হতে পারে। বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য

বিষয়তথ্য
দুর্ঘটনার স্থানগোন্দারদিয়া, মধুখালী, ফরিদপুর
সড়কঢাকা–খুলনা মহাসড়ক
সময়রোববার ভোর আনুমানিক ছয়টা
নিহতরেশমা বেগম (২৫)
আহতস্বামী ও পাঁচ বছর বয়সী কন্যা
যানবাহনপ্রাইভেটকার
প্রাথমিক কারণনিয়ন্ত্রণ হারানো ও অতিরিক্ত গতি

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই এলাকায় সড়কের বাঁক, পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক সাইনেজের অভাব এবং যানবাহনের বেপরোয়া গতি প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে। তারা দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি, স্পিড ব্রেকার স্থাপন এবং নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন।

রেশমা বেগমের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবারে গভীর শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। বিশেষ করে মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে দ্রুত বাড়ি ফেরার পথে এমন দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু এলাকাবাসীর জন্য এক হৃদয়বিদারক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।