মানিকগঞ্জে হামের উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি

মানিকগঞ্জে হাম (মিজেলস) সদৃশ উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে জেলায় মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০৮ জনে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) মানিকগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, নতুন শনাক্ত হওয়া রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং যাদের শারীরিক অবস্থা তুলনামূলক জটিল, তাদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।

বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে মোট ৬৭ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১৪ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে জ্বর, শরীরে লালচে দানা, সর্দি, কাশি, দুর্বলতা এবং চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ বেশি দেখা যাচ্ছে। এসব লক্ষণ হাম রোগের সাধারণ উপসর্গের সঙ্গে মিল রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হাম প্রতিরোধ ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন রোগী শনাক্তকরণ, চিকিৎসা প্রদান এবং আক্রান্ত পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার পাশাপাশি সংক্রমণ বিস্তার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীরা উপসর্গ শনাক্ত ও সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলেও জানা গেছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত জ্বর, কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া এ রোগের প্রধান লক্ষণ। শিশুদের ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা না হলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে বলেও জানিয়েছেন তারা।

তারা আরও বলেন, হাম প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা। জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের নির্ধারিত সময়ে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধী টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কোনো শিশুর শরীরে জ্বর, ফুসকুড়ি বা হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, রোগীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেলে অতিরিক্ত শয্যা, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসাসামগ্রী প্রস্তুত রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আক্রান্তদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে পরিবারগুলোকে শিশুদের পূর্ণ টিকাদান নিশ্চিত করা, অসুস্থ ব্যক্তিকে আলাদা রাখা এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।