মাদ্রাসাশিক্ষক শ্লীলতাহানি অভিযোগে স্থায়ী বহিষ্কার

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মো. শাহীন উদ্দীন (৩১) নামের এক মাদ্রাসাশিক্ষককে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সোমবার (১৫ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাদ্রাসা কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অভিযুক্ত শাহীন উদ্দীন ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম হাসনাদ এলাকার মৃত বদিউল আলমের ছেলে। তিনি স্থানীয় খিল্লাপাড়া হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রা.) ইবতেদায়ি মাদ্রাসা ও হেফজখানায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১৪ জুন) মাদ্রাসা চলাকালীন সময়ে দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানায়।

পরবর্তীতে সোমবার সকালে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ একটি জরুরি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করে। বৈঠকে অভিযুক্ত শিক্ষক ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শোনা হয়। উপস্থিত অভিভাবক ও পরিচালনা পর্ষদের আলোচনার পর ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায় বলে জানানো হয়। এরপর অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাকে স্থায়ীভাবে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়।

ঘটনার একটি সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো—

বিষয়তথ্য
ঘটনাছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ
স্থানখিল্লাপাড়া হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রা.) ইবতেদায়ি মাদ্রাসা ও হেফজখানা, ফটিকছড়ি
অভিযুক্তমো. শাহীন উদ্দীন (৩১)
ঘটনার তারিখ১৪ জুন
সিদ্ধান্তের তারিখ১৫ জুন
ব্যবস্থাস্থায়ী বহিষ্কার ও মুচলেকা গ্রহণ

ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর প্রবাসী অভিভাবক বলেন, শ্রেণিকক্ষে এমন ঘটনার পর সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

অভিযুক্ত শিক্ষক শাহীন উদ্দীনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে।

মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা নাজিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা হয়নি। তিনি জানান, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে বহিষ্কার করেছে।

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে গুঞ্জন ছড়ালেও স্থানীয় ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি হাসান শামসুদ্দিন তা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি দলের কোনো সদস্য বা দায়িত্বশীল পদে ছিলেন না। তিনি ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।