খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ই জুন ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম

শিশুদের মোবাইল আসক্তি দূর করতে এবং তাদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় মসজিদে এসে টানা ২৭৫ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ১৩টি শিশু। নামাজে এমন ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পুরস্কার হিসেবে এই শিশুদের প্রত্যেককে একটি করে নতুন বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সংগঠন ‘দেশখাগুড়িয়া সমাজ কল্যাণ পরিষদ’ এই অভিনব প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
আজ শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে হাজীগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের দেশখাগুড়িয়া এলাকায় সমাজ কল্যাণ পরিষদের কার্যালয় প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিশুদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ব্যতিক্রমী এই আয়োজনটি দেখতে পুরো এলাকার মানুষ অনুষ্ঠানস্থলে ভিড় জমান।
দেশখাগুড়িয়া সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আজাদ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবদুল হামিদের চমৎকার সঞ্চালনায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এলাকার বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি মোবারক হোসেন, জগন্নাথপুর হাজী এরশাদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ মুরতেজা কামাল, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন, শিক্ষক হাবিবুর রহমান ও আবদুল হান্নান। ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আবু বকর, মাওলানা মজিবুর রহমান এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক আমিন খান মিন্টু, নুরুন্নবী, শাহজালাল খান ও সাহিদুর রহমানসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ইঞ্জিনিয়ার রেজোয়ানুল হাছান টিটু এবং আমিরুল ইসলাম মুন্সী মীর হোসেন। তাঁরা প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিশুদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে এ ধরনের উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন। বক্তারা বলেন, বর্তমান যুগে শিশুদের যখন মাঠের খেলাধুলা বা ভালো অভ্যাস থেকে মোবাইল স্ক্রিন দূরে সরিয়ে দিচ্ছে, তখন মসজিদে আসার এই প্রতিযোগিতা তাদের মানসিক বিকাশে দারুণ ভূমিকা রাখবে।
আয়োজক সংগঠনের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান প্রজন্মের শিশুদের মধ্যে নিয়মিত নামাজ আদায়ের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং তাদের সৎ ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। টানা ২৭৫ ওয়াক্ত অর্থাৎ ৫৫ দিন একনাগাড়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে এসে পড়া শিশুদের জন্য বেশ কঠিন একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে পরিবারের সহযোগিতা ও নিজেদের আগ্রহে এই ১৩ শিশু সেটি সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। অভিভাবকেরা জানান, এই প্রতিযোগিতার কারণে শিশুদের সকালের ঘুম থেকে ওঠার অলসতা কেটে গেছে এবং তারা এখন অনেক বেশি অনুগত ও নিয়মানুবর্তী হয়ে উঠেছে। সমাজ কল্যাণ পরিষদের সদস্যরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, শিশুদের কল্যাণে ও সামাজিক উন্নয়নে তাঁদের এমন শিক্ষণীয় কার্যক্রম ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য