মধুপুরে মাদকসহ পাঁচজন আটক

টাঙ্গাইলের মধুপুরে পৃথক তিনটি মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ পাঁচজন আন্তঃজেলা মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১৪। অভিযানে মোট ১৫ কেজি গাঁজা, ৬০০টি বুপ্রেনোরফিন ইনজেকশন এবং ৩৫ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

র‌্যাব-১৪ এর সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল ক্যাম্পের সদস্যরা গত ৬ জুন মধুপুর থানার জলছত্র (২৫ মাইল) বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী এই অভিযান পরিচালনা করে। সরকারের ঘোষিত মাদকের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির অংশ হিসেবে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান চালানো হয় বলে জানানো হয়েছে।

প্রথম অভিযানে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জলছত্র বাজার এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা তল্লাশি করা হয়। এ সময় তিনজন মাদককারবারিকে আটক করা হয়। তারা হলেন হবিগঞ্জ জেলার সেলিম (৩৫), মৌলভীবাজার জেলার নাজমা বেগম (৪৮) এবং একই জেলার আনোয়ারা বেগম (৪৭)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অটোরিকশায় থাকা একটি ব্যাগ থেকে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তাদের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন এবং নগদ অর্থ জব্দ করা হয়।

পরবর্তীতে পৃথক দুটি অভিযানে আরও দুইজনকে আটক করা হয়, যারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জেলার মধ্যে মাদক সরবরাহ ও পরিবহন চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের কাছ থেকে বুপ্রেনোরফিন ইনজেকশন এবং বিদেশি মদের চালান উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইনজেকশনগুলো সাধারণত নেশাজাতীয় হিসেবে অপব্যবহৃত হয়, যা চিকিৎসা অনুমোদনের বাইরে ব্যবহার হলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

র‌্যাব জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য হিসেবে দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে তা টাঙ্গাইলসহ আশপাশের জেলায় সরবরাহ করছিল। দীর্ঘদিন ধরে তারা ছদ্মবেশে যাত্রী পরিবহন ও পণ্য পরিবহনের আড়ালে মাদক পরিবহনের কাজ করছিল বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং উদ্ধারকৃত আলামত যথাযথভাবে জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উদ্ধারকৃত মাদক ও আটক তথ্য

বিষয়পরিমাণ/বিবরণ
গাঁজা১৫ কেজি
বুপ্রেনোরফিন ইনজেকশন৬০০টি
বিদেশি মদ৩৫ বোতল
আটক ব্যক্তির সংখ্যা৫ জন
মোবাইল ফোন জব্দ৩টি

র‌্যাব-১৪ আরও জানিয়েছে, মাদক নির্মূল কার্যক্রম জোরদার করতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা হবে।