হালিশহরে খননকাজে মাটি ধসে প্রাণহানি

চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকায় চট্টগ্রাম ওয়াসার পয়োনিষ্কাশন প্রকল্পের খননকাজ চলাকালে ভয়াবহ মাটি ধসের ঘটনায় দুই শ্রমিক নিহত এবং আরও দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে আগ্রাবাদ বি-৪ প্রবেশ সড়ক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। উদ্ধার অভিযান শেষে আহত ও নিহতদের দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শ্রমিকরা হলেন মো. রাকিব (৩০) এবং মো. আইনুল ইসলাম (২২)। আহত শ্রমিকরা হলেন সাগর ও এরশাদ। আহত দুইজনকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পয়োনিষ্কাশন পাইপলাইন স্থাপনের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে মাটির গঠন ও ভারসাম্য যাচাইয়ের জন্য প্রায় আড়াই মিটার গভীর একটি পরীক্ষামূলক গর্ত খনন করা হচ্ছিল। কাজ চলাকালীন হঠাৎ করে গর্তের পাশের মাটি ধসে পড়ে। এতে গর্তের ভেতরে থাকা শ্রমিকরা মাটিচাপা পড়েন। একই সঙ্গে ব্যবহৃত কিছু যন্ত্রপাতিও ধসে পড়া মাটির নিচে চাপা পড়ে, ফলে উদ্ধার কার্যক্রম আরও জটিল হয়ে যায়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রকল্পটির কাজ করছিল একটি চীনা নির্মাণ সংস্থা, চায়না হাইড্রো। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খননস্থলে পর্যাপ্ত সুরক্ষা কাঠামোর অভাব এবং মাটির স্থিতিশীলতা যথাযথভাবে পরীক্ষা না করায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার পরপরই চারজন শ্রমিককে হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন এবং বাকি দুইজনের চিকিৎসা শুরু করেন। আহতদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের মাধ্যমে নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম মহানগরের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে গৃহীত এই বৃহৎ প্রকল্পটি ২০১৮ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির অনুমোদন পায়। প্রকল্পের আওতায় দৈনিক প্রায় ১০ কোটি লিটার বর্জ্য পরিশোধন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি শোধনাগার, একটি পৃথক সেপটিক বর্জ্য শোধনাগার এবং প্রায় ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পয়োনালা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই দুর্ঘটনা নগরের বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে শ্রমিক নিরাপত্তা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে গভীর খননকাজে যথাযথ সুরক্ষা দেয়াল, মাটি ধস প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত তদারকির ঘাটতি ছিল কি না—তা তদন্তে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নিচে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো—

বিষয়বিবরণ
দুর্ঘটনার স্থানহালিশহর, আগ্রাবাদ বি-৪ প্রবেশ সড়ক
সময়বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে চারটা
নিহত শ্রমিকমো. রাকিব (৩০), মো. আইনুল ইসলাম (২২)
আহত শ্রমিকসাগর, এরশাদ
প্রকল্পচট্টগ্রাম ওয়াসার পয়োনিষ্কাশন প্রকল্প
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানচায়না হাইড্রো
দুর্ঘটনার ধরনখননকালে মাটি ধসে চাপা পড়া

এই মর্মান্তিক ঘটনা নগরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ও তদারকির প্রয়োজনীয়তাকে আরও একবার সামনে এনেছে।