খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ই জুন ২০২৬, ৫:০ পিএম

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটেছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দায়িত্ব পালন করার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) এক জওয়ান প্রাণ হারিয়েছেন। একই দিনে জেলার অন্য একটি এলাকায় নদী পার হওয়ার সময় বজ্রপাতের আঘাতে আরও চারজন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তীব্র ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে ঘটা এই পৃথক দুটি ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সীমান্তে নিহত বিএসএফ জওয়ানের নাম ভিনীত কুমার দুবে। ৪৬ বছর বয়সী এই চৌকস সদস্য বিএসএফের ৭১ ব্যাটালিয়নের একজন হেড কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি উত্তর প্রদেশের কান্নৌজ জেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে মুর্শিদাবাদের বাবুরা ঘাট সীমান্ত চৌকিতে (বিওপি) নিজের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
মঙ্গলবার রাতে মুর্শিদাবাদ জেলাজুড়ে হঠাৎ করেই প্রবল বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া এবং তীব্র বজ্রপাত শুরু হয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই ভিনীত কুমার দুবে মিঠিপুর এলাকার একটি অরক্ষিত সীমান্ত অংশে টহল দিচ্ছিলেন। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার আন্তর্জাতিক সীমানা নির্ধারণকারী শূন্যরেখার (জিরো লাইন) কাছে খোলা আকাশের নিচে যখন তিনি নিজের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন, ঠিক তখনই সরাসরি তার ওপর একটি শক্তিশালী বজ্রপাত আঘাত হানে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং গুরুতরভাবে জখম হন।
ঘটনার পরপরই সীমান্তে কর্তব্যরত তার অন্য সহকর্মীরা দ্রুত এগিয়ে যান। তারা অচেতন অবস্থায় ভিনীত কুমারকে উদ্ধার করে প্রথমে নিকটবর্তী বিএসএফ ক্যাম্পে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন। অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় তাকে দ্রুত জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর সেখানকার জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের তাণ্ডব কেবল সীমান্ত এলাকাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এর ঠিক কিছু সময় আগে ওই একই দিনে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান এলাকায় আরেকটি বড় দুর্ঘটনা ঘটে। একদল স্থানীয় বাসিন্দা নৌকাযোগে গঙ্গা নদী পার হচ্ছিলেন। মাঝনদীতে থাকাকালীন আচমকা নৌকাটির ওপর বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই চারজন আরোহীর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় নৌকায় থাকা আরও অন্তত ১৫ জন যাত্রী কমবেশি আহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত নদী থেকে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। সীমান্ত পাহারা দেওয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজের পাশাপাশি বর্ষা ও দুর্যোগের মৌসুমে এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাও যে কতটা অনিরাপদ হয়ে ওঠে, এই ঘটনাগুলো তারই এক নির্মম চিত্র তুলে ধরেছে।
মন্তব্য