খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই মে ২০২৬, ৫:৪৩ পিএম

প্রবীণ শিল্পপতি, সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মুন্সীগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
পারিবারিক সূত্র ও ঘনিষ্ঠজনদের বরাতে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ নোভেনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আজ শনিবার ভোর আনুমানিক ২টা ৪৭ মিনিটে তিনি সেখানে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর কন্যা তাসনিম সিনহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মৃত্যুসংবাদ নিশ্চিত করেন।
মিজানুর রহমান সিনহা বাংলাদেশের রাজনীতি, শিল্প ও সমাজসেবায় দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-২ আসন থেকে তিনি দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পান।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দলটি প্রাথমিকভাবে তাঁকে মনোনয়ন দিলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থানের ফলে পরবর্তীতে চূড়ান্ত মনোনয়নে পরিবর্তন আনা হয়।
রাজনীতির পাশাপাশি মিজানুর রহমান সিনহা শিল্প ও ব্যবসায়িক অঙ্গনেও ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তিনি দ্য একমে ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
তাঁর কর্মজীবনের শুরু হয় ১৯৬৪ সালে হাবিব ব্যাংক লিমিটেডে। সেখানে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালে তিনি পারিবারিক ঐতিহ্য ও পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একমে ল্যাবরেটরিজে যোগ দেন। তাঁর পিতা প্রয়াত হামিদুর রহমান সিনহা ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৮১ সালে তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং প্রায় পাঁচ দশক ধরে তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করে।
রাজনীতির বাইরেও তিনি সমাজকল্যাণ ও দাতব্য কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য বলে পরিচিত।
নিচে তাঁর জীবন ও কর্মযাত্রার একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| জন্ম | প্রায় ১৯৪৪ |
| মৃত্যু | ২০২৬, সিঙ্গাপুর |
| মৃত্যুকালীন বয়স | ৮২ বছর |
| পেশা | রাজনীতিবিদ, শিল্পপতি |
| রাজনৈতিক দল | বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল |
| সংসদ সদস্য | মুন্সীগঞ্জ-২ (১৯৯৬, ২০০১) |
| গুরুত্বপূর্ণ পদ | স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিএনপি কোষাধ্যক্ষ, জেলা আহ্বায়ক |
| ব্যবসায়িক দায়িত্ব | ব্যবস্থাপনা পরিচালক, একমে ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড |
| কর্মজীবন শুরু | ১৯৬৪, হাবিব ব্যাংক লিমিটেড |
তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গন, শিল্পখাত এবং স্থানীয় সমাজে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁকে একজন দক্ষ সংগঠক, দূরদর্শী উদ্যোক্তা এবং সমাজহিতৈষী ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণ করছেন।
মন্তব্য