খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:৪ এএম

বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবল অঙ্গনে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বিতীয় পর্বকে সামনে রেখে দলবদলের বাজারে চমক দেখিয়েছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ব্রাদার্স ইউনিয়ন। লিগের দ্বিতীয় লেগের জন্য তারা একসঙ্গে পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের পাঁচজন সদস্যকে দলে ভিড়িয়েছে। সত্তর দশকের পর এই প্রথম বাংলাদেশের ফুটবলে এত বিপুল সংখ্যক পাকিস্তানি ফুটবলারের পদচারণা ঘটতে যাচ্ছে, যা ক্রীড়ামোদীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
Table of Contents
৩১ জানুয়ারি শেষ হওয়া মধ্যবর্তী দলবদলে ব্রাদার্স ইউনিয়ন তাদের শক্তি বাড়াতে পাকিস্তান জাতীয় দলের নির্ভরযোগ্য পাঁচজন খেলোয়াড়কে নিশ্চিত করেছে। এই খেলোয়াড়রা নিজ দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়মিত মুখ। বিশেষ করে রক্ষণভাগ ও মধ্যমাঠে তাদের অভিজ্ঞতা ব্রাদার্সকে লিগের দ্বিতীয়ার্ধে সুবিধা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিচে ব্রাদার্স ইউনিয়নে যোগ দেওয়া পাকিস্তানি ফুটবলারদের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো:
| খেলোয়াড়ের নাম | পজিশন | আন্তর্জাতিক ম্যাচ (পাকিস্তান) |
| উমর হায়াত | ডিফেন্ডার | ২২টি ম্যাচ |
| আলমগীর গাজী | মিডফিল্ডার | ১৮টি ম্যাচ |
| শায়েক দোস্ত | উইঙ্গার | ১৬টি ম্যাচ |
| আবদুল্লাহ শাহ | ডিফেন্ডার | ৭টি ম্যাচ |
| হায়ান খাট্টাক | ফরোয়ার্ড | ১টি ম্যাচ |
ব্রাদার্স ইউনিয়নের ম্যানেজার আমের খান পাকিস্তানি খেলোয়াড় সংগ্রহের পেছনে দুটি প্রধান কারণ উল্লেখ করেছেন। প্রথমত, আর্থিক সাশ্রয়। বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় দলের শীর্ষসারির খেলোয়াড়রা বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে আবদ্ধ এবং তাদের পারিশ্রমিক অত্যন্ত চড়া। সেই তুলনায় সমমানের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক অনেক কম। দ্বিতীয়ত, দলের মধ্যে বোঝাপড়া বা ‘টিম বন্ডিং’ উন্নত করা। বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড় না নিয়ে একই দেশের এবং একই জাতীয় দলের সতীর্থদের নেওয়ায় মাঠে তাদের রসায়ন দ্রুত কার্যকর হবে বলে ক্লাব কর্তৃপক্ষ মনে করছে।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) সদস্য দেশগুলোর খেলোয়াড়রা বিদেশি কোটায় অন্তর্ভুক্ত হন না। এই নিয়মের সুযোগ নিয়ে ব্রাদার্স ইউনিয়ন কার্যত ১০ জন ভিনদেশি খেলোয়াড়কে মাঠে নামানোর সুযোগ পাচ্ছে। পাঁচজন পাকিস্তানি ছাড়াও দলে রয়েছেন গিনির তিনজন, নাইজেরিয়ার একজন এবং সেনেগালের একজন ডিফেন্ডার। প্রথম পর্বে ব্রাদার্সে নেপালের চারজন খেলোয়াড় থাকলেও তারা নিজ দেশের ঘরোয়া লিগে খেলার উদ্দেশ্যে ক্লাব ছেড়েছেন।
বাংলাদেশের ফুটবলে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের উপস্থিতি অনেক পুরনো। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে ১৯৭৭ সালে ঢাকা মোহামেডানের হয়ে খেলেছিলেন কালা গফুর, ফজল ও আশিক। পরবর্তীতে আমির বক্সকেও সাদা-কালো জার্সিতে দেখা গিয়েছিল। তবে আশির দশকের পর থেকে এই দীর্ঘ সময়ে আর কোনো পাকিস্তানি ফুটবলারকে বাংলাদেশের মাঠে দেখা যায়নি।
ব্রাদার্স ইউনিয়নের পাশাপাশি নবাগত দল পিডব্লিউডি-ও পাকিস্তানের দুই ফুটবলারকে দলে নিয়েছে। তারা হলেন গোলকিপার উসমান আলী এবং অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার আলী উজাইর মাহমুদ। সব মিলিয়ে দ্বিতীয় পর্বে মোট সাতজন পাকিস্তানি খেলোয়াড়কে বিপিএলের মাঠে দেখা যাবে।
জাতীয় নির্বাচনের ডামাডোল কাটিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে লিগের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বাফুফে চূড়ান্ত সূচি ঘোষণা করলেই এই খেলোয়াড়রা ঢাকায় পৌঁছাবেন। লিগের প্রথম পর্বে ব্রাদার্সের অবস্থান খুব একটা আশাব্যঞ্জক না হলেও, এই শক্তিশালী বিদেশি বহর নিয়ে তারা দ্বিতীয় পর্বে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া।
মন্তব্য