খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই জুলাই ২০২৬, ৯:০ পিএম

চট্টগ্রাম নগরে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্য দিবালোকে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর এবং ৩৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের মালিকের দাবি, হামলার আগে তাঁর কাছে ফোন করে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়।
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা–বাকলিয়া এক্সেস সড়কে অবস্থিত ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন)-এর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা শুরু করেছে।
প্রতিষ্ঠানের মালিক আদিল বিন মামুন জানান, ঘটনার দুই দিন আগে বিদেশি একটি নম্বর থেকে তাঁর মুঠোফোনে কল আসে। কলকারী নিজেকে মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন হিসেবে পরিচয় দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যেতে চাইলে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে বলে হুমকি দেন। তিনি আরও দাবি করেন, এখন থেকে ওই ব্যবসা তাঁদের নিয়ন্ত্রণেই চলবে।
আদিল বিন মামুনের অভিযোগ, চাঁদা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়ার পরই তাঁর প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি দাবি করেন, ফোনালাপে কলকারী নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে তুলে ধরেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারাও তাঁকে চেনেন বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে নগরের আরেক ব্যবসায়ীর বাসভবনে চাঁদা না পেয়ে গুলিবর্ষণের ঘটনাও উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে ভয়ভীতি দেখানো হয়।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল হঠাৎ অফিসে ঢুকে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। দেশীয় অস্ত্র হাতে থাকা হামলাকারীরা অফিসের কম্পিউটার, আসবাবপত্র এবং কর্মীদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ভাঙচুর করে। ফুটেজে এক হামলাকারীকে কুড়াল দিয়ে কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতিতে আঘাত করতে দেখা যায়। পুরো সময়জুড়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
ডিডিএনের পরিচালক রিদোয়ানুল কবির বলেন, হামলাকারীরা অফিসে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য রাখা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে যায়। হামলার কারণে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে। এ ঘটনার পর আশপাশের ইন্টারনেট ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের মধ্যেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুর হোসেন মামুন জানিয়েছেন, হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশের দাবি, হামলার সঙ্গে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা জড়িত থাকতে পারে। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোবারক হোসেন ওরফে ইমন চট্টগ্রামে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের অন্যতম সদস্য এবং তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র-সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালে সংঘটিত বাকলিয়ার জোড়া হত্যা এবং পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সংঘটিত আরেকটি আলোচিত হত্যা মামলাসহ মোট সাতটি মামলার আসামি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, বিদেশে অবস্থানরত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় কয়েকজন সক্রিয় রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে। যদিও বিভিন্ন ভুক্তভোগী অভিযোগ দিয়েছেন, তবুও অভিযুক্তদের অনেকেই এখনো গ্রেপ্তারের বাইরে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৯ মে এক সাংবাদিককে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গুলি করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠে। এর আগে ২ জানুয়ারি এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি নগরের একই এলাকায় এক ব্যবসায়ীর বাসভবনে চাঁদা না পেয়ে গুলিবর্ষণের ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। সর্বশেষ হামলার ঘটনায় চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা এবং সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মন্তব্য