খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই জুলাই ২০২৬, ৮:২২ পিএম

দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন এবং অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে গত ৭২ দিনে প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। একই সময়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, দেশীয় অস্ত্র, বিস্ফোরক, মাদকদ্রব্য এবং অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার পুলিশ সদর দপ্তরের গণমাধ্যম শাখা থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১ মে থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলা, মহানগর ও উপজেলায় পরিচালিত অভিযানে এসব গ্রেপ্তার ও জব্দের ঘটনা ঘটে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই ৭২ দিনের অভিযানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৩২ হাজার ৯০৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন মামলার আসামি, পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তি এবং অন্যান্য অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে সাধারণ অভিযানে আরও ৮৩ হাজার ৮১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। সব মিলিয়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজারে পৌঁছেছে।
অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ২৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৭৬টি পিস্তল, ৫০টি বন্দুক, ৩৩টি এলজি, ৩০টি শুটার গান, ১৮টি রিভলবার, ১৫টি পাইপগান, ১২টি এয়ারগান, ৪টি শটগান, ২টি রাইফেল, ২টি সাবমেশিনগান (এসএমজি) এবং একটি পেনগান। এর পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে ২ হাজার ৩১৩টি গুলি, ৮৮টি ম্যাগাজিন, ৫০৩টি দেশীয় অস্ত্র, ৪৩টি ককটেল, প্রায় ২ কেজি গানপাউডার, ১৮টি অস্ত্রের যন্ত্রাংশ, ১৭টি অস্ত্র ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম এবং ১০ হাজার চকলেট বোমা।
মাদকবিরোধী অভিযানেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নিষিদ্ধ দ্রব্য জব্দ হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই সময়ে উদ্ধার করা হয়েছে ৭৬ লাখ ৪০ হাজার ২৭৬টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ৮ হাজার ২৮৪ পুরিয়া হেরোইন, ৩ হাজার ১৮৬ বোতল ফেনসিডিল, ৬ হাজার ৮৩৫ বোতল বিদেশি মদ, ৩৫৪ বোতল দেশীয় মদ, ৫ হাজার ৩৩৬ পুরিয়া গাঁজা এবং বিভিন্ন ধরনের অন্যান্য মাদকদ্রব্য।
মাদক উদ্ধারের ঘটনায় সারা দেশে মোট ১৪ হাজার ১৫৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ২০ হাজার ৪৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
পুলিশ বলছে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান জোরদার করা এবং মাদক পাচার ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যেই এই ধারাবাহিক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
অভিযানের মাধ্যমে একদিকে যেমন বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে, অন্যদিকে অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের বিস্তার রোধেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের মতে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান সমন্বিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে, যাতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।
মন্তব্য