খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই জুলাই ২০২৬, ৫:৪৯ পিএম

জস বাটলারের দুর্দান্ত শতরান ও রেকর্ড গড়া জুটির ওপর ভর করে ভারতকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। সাউদাম্পটনে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৫৬ রানের জয় তুলে নিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ভারতকে ৪-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছে স্বাগতিকরা। এই জয়ের মাধ্যমে টি-টোয়েন্টি বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানও দখল করেছে ইংল্যান্ড।
দীর্ঘ তিন বছর পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরির দেখা পেলেন ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ও অধিনায়ক জস বাটলার। ৩৫ বছর বয়সী এই তারকা ব্যাটার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন। আটটি ছক্কার সাহায্যে মাত্র ৫১ বলে শতরান পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৩১ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলে ইংল্যান্ডের বিশাল সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন।
বাটলারের সঙ্গে অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের জুটি ছিল ম্যাচের অন্যতম বড় আকর্ষণ। তৃতীয় উইকেটে তারা ২৩৩ রানের রেকর্ড জুটি গড়েন, যা ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ব্রুকও ব্যাট হাতে অসাধারণ ছন্দ দেখিয়ে অপরাজিত থাকেন ৯৫ রানে। তাদের এই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ড ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ২৫৭ রান, যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দলটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর।
ইংল্যান্ডের ইনিংসের শুরু থেকেই আক্রমণের ধার দেখা যায়। ম্যাচের প্রথম ছক্কাটি আসে বাটলারের ব্যাট থেকে। মিড অনের ওপর দিয়ে তার শক্তিশালী শটটি বুঝিয়ে দেয়, বড় ইনিংসের লক্ষ্য নিয়েই তিনি মাঠে নেমেছিলেন। অন্যদিকে, ব্রুক শুরুতেই জীবন পান। শিবম দুবের হাত থেকে সহজ ক্যাচ পড়ে যাওয়ার পর তিনি আর পেছনে ফিরে তাকাননি। পরে প্রিন্স যাদবের বলে পরপর দুটি ছক্কা মেরে সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।
বাটলার শেষ পর্যন্ত শিবম দুবের বলে আউট হন। মিড অফে শ্রেয়াস আইয়ারের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১৩১ রান। অন্যদিকে, ব্রুক ৯৫ রানে অপরাজিত থেকে ইনিংস শেষ করেন।
২৫৮ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে ভারত। নিয়মিত ওপেনার বৈভব সূর্যবংশীর পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া সঞ্জু স্যামসন কিছুটা আক্রমণাত্মক শুরু করেছিলেন। তিনি জশ টংয়ের বলে দুটি ছক্কা মারলেও পরের মুহূর্তেই স্যাম কারানের প্রথম বলেই ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান ২৭ রান করে।
এরপর অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ও ঈশান কিষান তৃতীয় উইকেটে ৫৫ রানের জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। কিন্তু লিয়াম ডসনের বলে আইয়ারের বিদায়ে সেই জুটি ভেঙে যায়। ঈশান কিষানও ব্যক্তিগত ৫০ রানের পর ফিরে যান আদিল রশিদের বলে। তার বিদায়ের পেছনে বড় ভূমিকা রাখেন ফিল সল্ট, যিনি ডিপ মিডউইকেট থেকে দৌড়ে এসে অসাধারণ এক ক্যাচ নেন।
ভারতের হয়ে তিলক ভার্মা সর্বোচ্চ ৫৩ রান করেন। তবে তিনিও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। বাটলারের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। ম্যাচে উইকেটকিপার হিসেবে বাটলার মোট তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ নেন, যা ইংল্যান্ডের জয়ে বড় ভূমিকা রাখে।
শেষ পর্যন্ত ভারত ৮ উইকেট হারিয়ে ২০১ রান পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়। ব্যাটিং ব্যর্থতার পাশাপাশি ইংল্যান্ডের বড় সংগ্রহের চাপ সামলাতে না পারায় সিরিজের শেষ ম্যাচেও জয়বঞ্চিত হয় তারা।
এই জয়ের মাধ্যমে টি-টোয়েন্টি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতের বিপক্ষে ইংল্যান্ড আরও একটি দাপুটে জয় তুলে নিল। পুরো সিরিজজুড়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং ও বোলিং বিভাগ ছিল অনেক বেশি কার্যকর, যেখানে ভারত ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।
এবার দুই দলের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ। মঙ্গলবার বার্মিংহামে শুরু হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এই সফর ভারতের জন্য আরও একটি কারণে বিশেষ হতে পারে। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলির জন্য ইংল্যান্ডে এটি হতে পারে তার শেষ সফর। ফলে ওয়ানডে সিরিজ ঘিরেও ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ থাকবে তুঙ্গে।
মন্তব্য