খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই জুন ২০২৬, ৪:৩৯ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে ভ্রমণ ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনটি দেশের বিভিন্ন শহরে ম্যাচ আয়োজনের কারণে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী এবং দর্শকদের মতো ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও ঘন ঘন শহর পরিবর্তন করতে হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ব্যক্তিগত জেট ব্যবহারের বিষয়টি সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট চলাকালে একাধিক ম্যাচে উপস্থিত থাকার উদ্দেশ্যে ইনফান্তিনো প্রায়ই এক শহর থেকে অন্য শহরে বিমানে যাতায়াত করছেন। বিভিন্ন দিনে একাধিক ভেন্যুতে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ায় তিনি দ্রুত ভ্রমণের জন্য ব্যক্তিগত জেট ব্যবহার করছেন বলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় ১১ জুন রাতে মেক্সিকো সিটির স্টেডিয়ামে। ওই ম্যাচে মুখোমুখি হয় মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। উদ্বোধনী ম্যাচে উপস্থিত থাকার পর একই রাতেই ইনফান্তিনো গুয়াদালাহারায় যান এবং সেখানে দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের মধ্যকার ম্যাচ উপভোগ করেন। মেক্সিকো সিটি ও গুয়াদালাহারার মধ্যকার দূরত্ব প্রায় ২৮৫ মাইল।
পরদিন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন। ওই ম্যাচ চলাকালে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর পাশে বসে খেলা দেখতে দেখা যায়।
এরপর ১৩ জুন ইনফান্তিনো একই দিনে দুটি পৃথক শহরে অনুষ্ঠিত দুটি ম্যাচে উপস্থিত হন। তিনি প্রথমে সানফ্রান্সিসকো এবং পরে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে গিয়ে দুটি আলাদা ম্যাচ উপভোগ করেন। ধারাবাহিকভাবে একাধিক শহরে তাঁর উপস্থিতি ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
পরে তিনি মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত ফিফার একটি সামিটে অংশ নেন। সেই কর্মসূচি শেষে তিনি সিয়াটলে অনুষ্ঠিত বেলজিয়াম ও মিশরের ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন। একই সফরের ধারাবাহিকতায় পরে লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরান ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচও সরাসরি দেখেন।
| তারিখ | স্থান | ম্যাচ/কার্যক্রম |
|---|---|---|
| ১১ জুন | মেক্সিকো সিটি | মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা |
| ১১ জুন | গুয়াদালাহারা | দক্ষিণ কোরিয়া বনাম চেক প্রজাতন্ত্র |
| ১২ জুন | লস অ্যাঞ্জেলেস | যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে |
| ১৩ জুন | সানফ্রান্সিসকো | একটি ম্যাচে উপস্থিতি |
| ১৩ জুন | ভ্যাঙ্কুভার | একটি ম্যাচে উপস্থিতি |
| পরবর্তী সময় | মিয়ামি | ফিফা সামিট |
| পরবর্তী সময় | সিয়াটল | বেলজিয়াম বনাম মিশর |
| পরবর্তী সময় | লস অ্যাঞ্জেলেস | ইরান বনাম নিউজিল্যান্ড |
আয়োজক চুক্তি অনুযায়ী টুর্নামেন্ট-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য চার্টার বিমানের সুবিধা রাখা হয়েছে। তবে সাধারণ পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত জেট ব্যবহারের পরিমাণ সীমিত থাকে। এ বিষয়ে ফিফা জানিয়েছে, সভাপতির ভ্রমণসূচি ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে কখনও বাণিজ্যিক ফ্লাইট, আবার কখনও চার্টার ফ্লাইট ব্যবহার করা হয়। সংস্থাটিই এসব ভ্রমণের ব্যয় বহন করে।
তবে পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা দেখা দিয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস ইউএসএ বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক তাপপ্রবাহ এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিগত জেটের ব্যবহার নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে। সংগঠনটির মতে, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধির সময়ে উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের ভ্রমণ পদ্ধতিও জনসাধারণের নজরে থাকে।
ফিফা এখন পর্যন্ত ইনফান্তিনোর ভ্রমণ কার্যক্রমকে তাঁর দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। অন্যদিকে সমালোচকেরা পরিবেশগত প্রভাবের বিষয়টি সামনে এনে এ ধরনের ভ্রমণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক চললেও ফিফার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সভাপতির ভ্রমণসূচি সংগঠনের প্রয়োজন ও কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নির্ধারণ করা হয়।
মন্তব্য