চলতি মে মাসের ২৫ থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে বিমা বাজারে ব্যাপক পরিবর্তন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন লক্ষ করা গেছে। এই সপ্তাহের মূল আলোচনার কেন্দ্রে ছিল নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আনুষ্ঠানিক উন্মোচন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিমা সুবিধা নিশ্চিত করতে কৌশলগত অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে থাকা কৃষকদের অর্থপ্রদান এবং বৈশ্বিক বাজারে দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি জোরদার করার নতুন পরিকল্পনা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমা প্রতিষ্ঠানের এসব উদ্যোগ সামগ্রিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বিমা খাতের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তাকে আরও একবার সুদৃঢ়ভাবে প্রমাণ করেছে।
ক্যাথের নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং ভিয়েতনামে ক্ষতিপূরণ প্রদান
বিখ্যাত বিমান সংস্থা ‘ক্যাথি’ (Cathay) তাদের সদস্যদের জন্য একটি বিশেষ এবং সমন্বিত ডিজিটাল বিমা প্ল্যাটফর্ম চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। এই নতুন প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে সদস্যরা এখন একক পোর্টাল থেকেই বিমা পার্টনারদের দেওয়া ভ্রমণ, স্বাস্থ্য, গৃহ, মোটর এবং ব্যক্তিগত দুর্ঘটনাজনিত সব ধরণের বিমা সুবিধা খুব সহজে দেখতে ও ক্রয় করতে পারবেন।
ক্যাথি কর্তৃক প্রকাশিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যোগ্য কেনাকাটার বিপরীতে গ্রাহকেরা ‘এশিয়া মাইলস’ (Asia Miles) অর্জন করার বিশেষ সুযোগ পাবেন। এর পাশাপাশি সদস্যরা এই একক ডিজিটাল পোর্টাল ব্যবহার করে খুব সহজেই তাঁদের পলিসি ব্যবস্থাপনা এবং বিমার দাবি বা ক্লেইম নিষ্পত্তির জন্য সব ধরণের কারিগরি সহায়তা উপভোগ করতে পারবেন।
বৈশ্বিক বিমা খাতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক পদক্ষেপ
ক্ষতিপূরণ বিতরণ ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব:
ভিয়েতনামে কফি চাষিদের অর্থপ্রদান: ডব্লিউটিডব্লিউ (WTW) এর অংশ ‘উইলিস’ (Willis) এবং ‘গ্লোবাল প্যারামেট্রিকস’ (Global Parametrics) যৌথভাবে নিশ্চিত করেছে যে, ভিয়েতনামের সেন্ট্রাল হাইল্যান্ডস বা কেন্দ্রীয় পার্বত্য অঞ্চলের কফি চাষিদের একটি প্যারামেট্রিক বিমা পলিসির আওতায় আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়েছে। মূলত ২০২৫-২০২৬ সালের কফি উৎপাদন বা চাষের মৌসুমে ভিয়েতনামের ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কফি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। এর আগে, গত ২০২৫ সালের শেষের দিকে ভিয়েতনামের ‘বাও মিন ইন্সুরেন্স কর্পোরেশন’ (Bao Minh Insurance Corporation)-এর সাথে একটি অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত সংক্রান্ত প্যারামেট্রিক পলিসি সক্রিয় করা হয়েছিল।
শ্রীরাম ও পিরামল ফাইন্যান্সের চুক্তি: ভারতের বিমা বাজারে ‘শ্রীরাম জেনারেল ইন্সুরেন্স’ (SGI) দেশের ছোট ছোট শহর এবং প্রান্তিক এলাকায় বিমা সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ‘পিরামল ফাইন্যান্স’ (Piramal Finance)-এর সাথে একটি কৌশলগত ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির ফলে শ্রীরাম জেনারেল ইন্সুরেন্স মূলত আধা-শহুরে এবং গ্রামীণ বাজারগুলোতে সাধারণ মানুষের বিমা সমাধানের সুযোগ আরও সহজ ও উন্নত করতে পারবে।
শাখা নেটওয়ার্কের ব্যবহার: শ্রীরাম জেনারেল ইন্সুরেন্স তাদের পণ্য গ্রাহকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পিরামল ফাইন্যান্সের ২৬টি রাজ্যজুড়ে বিস্তৃত মোট ৭০১টি শাখা এবং শক্তিশালী গ্রাহক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সরাসরি ব্যবহার করবে। এর মাধ্যমে দেশটির ১৩ হাজারেরও বেশি পিন কোড বা সুনির্দিষ্ট ডাক বিভাগে বিমা সেবা এবং পলিসিগুলো বিপণন ও বিক্রয় করার সুযোগ তৈরি হবে।
টোকিও মেরিন হোল্ডিংসের দশ বছর মেয়াদী দীর্ঘমেয়াদী ভিশন
জাপানের শীর্ষস্থানীয় বিমা গ্রুপ ‘টোকিও মেরিন হোল্ডিংস’ (Tokio Marine Holdings) আগামী এক দশকের মধ্যে নিজেদের একটি ঐতিহ্যবাহী সাধারণ বিমা কোম্পানি থেকে সম্পূর্ণরূপে একটি বিস্তৃত বৈশ্বিক সমাধান অংশীদারে রূপান্তরিত করার ঘোষণা দিয়েছে। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি তাদের আগামী দশ বছরের জন্য একটি সুদূরপ্রসারী কৌশলগত পরিকল্পনা বা ভিশন প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘অ্যাসপিরেশন ২০৩৫’ (Aspiration 2035)। এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে কোম্পানির নিট আয় দ্বিগুণ করা এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা।
টোকিও মেরিন হোল্ডিংসের প্রেসিডেন্ট এবং গ্রুপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসাহিরো কোইকে এই নতুন আর্থিক লক্ষ্যের রূপরেখা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোম্পানিটি ২০৩৫ সালের মধ্যে তাদের সমন্বিত নিট আয় বৃদ্ধি করে ১০ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েনে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের বেসলাইন বা ভিত্তি বছর হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান বার্ষিক নিট আয় হচ্ছে ৫ দশমিক ্মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৮৮১ দশমিক ৫ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন। এই বিশাল আর্থিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে কোম্পানিটি বিশ্বজুড়ে তাদের বিনিয়োগ ও সেবার পরিধি আরও আধুনিক করার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
