খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুলাই ২০২৬, ১২:৩৩ এএম

জাপানের জীবন বীমা খাত গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় নীতিগত রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটির জন্মহার হ্রাস ও বার্ধক্যগ্রস্ত জনসংখ্যার কারণে স্থানীয় বাজারে ব্যবসার স্বাভাবিক প্রসারের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে জাপানি জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি পুনর্বীমার (Reinsurance) ওপর নির্ভরতা নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে বিশ্ববাজারের অস্থিরতা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর নীতির মাঝে এই কৌশল কতটা টেকসই, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মাঝে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গবেষণা সংস্থা ক্রেডিটসাইটস (CreditSights) তাদের এক মূল্যায়নে জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধি ধীর হলেও জাপানের জীবন বীমা খাত এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী মূলধন ভিত্তি ধরে রাখতে পেরেছে। মূলত নতুন নিয়ন্ত্রক কাঠামোর সাথে খাপ খাইয়ে নিতেই বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্ববাজারমুখী হচ্ছে।
জাপানের ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এজেন্সি (FSA) প্রবর্তিত নতুন অর্থনৈতিক মানদণ্ড ‘জাপান ইন্স্যুরেন্স ক্যাপিটাল স্ট্যান্ডার্ড’ (J-ICS) কার্যকর হওয়ার পর থেকেই খাতের চিত্র বদলাতে শুরু করে। এই মানদণ্ডটি সুদের হারের পরিবর্তন, গ্রাহকদের পলিসি বাতিলের হার, সম্পদ ও দায়ের মধ্যকার অসমতা (ALM mismatch) এবং দীর্ঘমেয়াদি জীবন বীমা দাবির ঝুঁকির প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ফলে নিজস্ব মূলধনের সুরক্ষায় বীমা ঝুঁকি পুনর্বীমা কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করা প্রায় বাধ্যবাধকতায় পরিণত হয়েছে।
রেটিং সংস্থা এ.এম. বেস্টের (A.M. Best) উপাত্ত অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রক কাঠামোর পরিবর্তনের ফলে পুনর্বীমার ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে:
প্রিমিয়াম হস্তান্তরের হার: ২০২০ সালে অর্জিত প্রিমিয়ামের ১০ শতাংশেরও কম পুনর্বীমা করা হতো, যা ২০২৩ ও ২০২৪ সাল নাগাদ লাফিয়ে ২৪ শতাংশ অতিক্রম করে।
মূলধনী অনুপাতের বৃদ্ধি: খাতের মোট মূলধন ও উদ্বৃত্তের (Capital and Surplus) সাপেক্ষে হস্তান্তরিত পুনর্বীমার হার ২০২০ সালের ৪.৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৪ সাল শেষে ১৪.৮ শতাংশে পৌঁছায়।
বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা: ডাই-ইচি ফ্রন্টিয়ার লাইফ, প্রুডেন্সিয়াল জিব্রাল্টার ফিন্যান্সিয়াল এবং মেটলাইফ ইন্স্যুরেন্সের মতো শীর্ষ সারির কোম্পানিগুলোতে ২০২৪ সালে এই অনুপাত ৫০০ শতাংশও অতিক্রম করেছে।
যদিও আশার কথা হলো, সামগ্রিকভাবে জাপানের ব্যক্তিক জীবন বীমা ও অ্যানুইটি পলিসির মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ সরাসরি পুনর্বীমা চুক্তির আওতায় এসেছে, যা সার্বিক খাতের ওপর তাৎক্ষণিক বড় বিপর্যয়ের ঝুঁকি কমাচ্ছে।
পুনর্বীমার মাধ্যমে মূলধনের চাপ কমানো গেলেও এতে নতুন করে ‘কাউন্টারপার্টি রিস্ক’ বা সহযোগী প্রতিষ্ঠানের খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। কোনো বিদেশি পুনর্বীমা প্রতিষ্ঠান দায় পরিশোধে ব্যর্থ হলে পুরো অর্থায়নের বোঝা মূল বীমা কোম্পানির ওপরই এসে পড়বে। এ কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা FSA অফশোর পুনর্বীমা, প্রাইভেট ইকুইটি ফার্মের ভূমিকা ও সীমান্ত পারাপারের জামানত সুরক্ষায় অতিরিক্ত নজরদারি শুরু করেছে।
তবে নতুন J-ICS ব্যবস্থার অধীনে সলভেন্সি রেশিও কিছুটা নিম্নমুখী দেখালেও বড় বীমা কোম্পানিগুলো এখনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত সর্বনিম্ন ১০০ শতাংশ সীমা সফলভাবেই বজায় রাখছে। বিশ্ববাজারে সুদের হার বৃদ্ধির কারণে বন্ড পোর্টফোলিওতে কিছু অনাদায়ি ক্ষতি দৃশ্যমান হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি সম্পদ পুনর্বিনিয়োগে ভালো রিটার্ন এনে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য