খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই জুলাই ২০২৬, ৩:৫১ পিএম

পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে প্রতিবেশী দেশ ভারতে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে ৫০০ কেজি আম পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমের এই বিশেষ চালানটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হয়। কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের উপহাইকমিশনের প্রতিনিধির কাছে এই আম আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের এই বিশেষ উপহারের তালিকায় রয়েছে দেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সুস্বাদু আম্রপালি এবং হাঁড়িভাঙা জাতের আম। জানা গেছে, কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের ঠিকানায় পাঠানোর জন্য ১০০টি কার্টনে ৫ কেজি করে মোট ৫০০ কেজি আম প্যাকেট করা হয়।
বেনাপোল স্থলবন্দরের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, মোট চালানের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর জন্য ১০০ কেজি আম বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাকি ৪০০ কেজি আম পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, কূটনীতিক এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে বিতরণ করা হবে।
আমের এই চালানের বিষয়ে বেনাপোল চেকপোস্ট উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক মো. আবু তালহা আমাদের প্রতিনিধি কে
জানান, বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ১০০টি কার্টনে মোট ৫০০ কেজি আম ভারতের উপহাইকমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার জন্য একটি আনুষ্ঠানিক চিঠিও দেওয়া হয়েছে। সেই চিঠির নির্দেশনা অনুযায়ী, উপহাইকমিশনার আমগুলো পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বুদ্ধিজীবীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দেবেন।
উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছরের মতো এবারও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের জন্য বাংলাদেশের এই উন্নত মানের আম উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবছর আমের মৌসুমে বাংলাদেশের এই সুস্বাদু ফল উপহার দেওয়ার রীতি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের এই উদ্যোগকে ‘ম্যাঙ্গো ডিপ্লোমেসি’ বা ‘আম কূটনীতি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। এই সুমিষ্ট উপহার দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও জোরদার করার একটি চমৎকার প্রতীক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
মন্তব্য