ভারতীয় পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ এবারের আইপিএল মৌসুমে ক্যারিয়ারের অন্যতম ব্যতিক্রমী ও হতাশাজনক পরিসংখ্যানের মুখোমুখি হয়েছেন। তার দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স চলতি মৌসুমে দ্বিতীয় দল হিসেবে প্লে-অফের দৌড় থেকে বিদায় নিয়েছে। দলের এমন ব্যর্থতার পেছনে বুমরাহর ফর্মহীনতাকে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১১ বছর পর এবারই প্রথম কোনো আইপিএল মৌসুমে বুমরাহর উইকেট সংখ্যা দুই অঙ্কে পৌঁছায়নি। তিনি এবারের আসরে ১৩ ম্যাচ খেলেছেন এবং নিয়েছেন মাত্র ৪ উইকেট। এই সময়ে তার ইকোনমি রেট দাঁড়িয়েছে ৮.৩৬, যা তার স্বাভাবিক মানের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
আইপিএলে বুমরাহর সামগ্রিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় এটি তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের একটি বিরল ব্যতিক্রম। ২০১৫ সালের পর প্রথমবার তিনি কোনো মৌসুমে এক অঙ্কের উইকেটে আটকে থাকলেন। ওই বছর তিনি মাত্র ৪ ম্যাচ খেলেছিলেন এবং ৩ উইকেট নিয়েছিলেন। তবে এবারের পারফরম্যান্স ম্যাচসংখ্যা ও প্রত্যাশা—দুই দিক থেকেই ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে, কারণ এবার তিনি ১৩ ম্যাচ খেলেও মাত্র ৪ উইকেট পেয়েছেন।
২০১৬ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে বুমরাহ আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের প্রধান পেস আক্রমণ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পরবর্তী মৌসুমগুলোতে তার উইকেট সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১৫, ২০, ১৭, ১৯, ২৭, ২১, ১৫, ২০ ও ১৮। এই ধারাবাহিকতা তাকে আইপিএলের অন্যতম সফল বোলারদের কাতারে স্থাপন করেছে।
আইপিএল ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত বুমরাহ ১৫৮ ম্যাচে ১৮৭ উইকেট নিয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ডেথ ওভারে নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং ইয়র্কার দক্ষতার জন্য পরিচিত ছিলেন। তার ক্যারিয়ারের গড় ইকোনমি রেট ৭.৩৩ হলেও এবারের মৌসুমে সেই মানের চেয়ে বেশি রান দিয়েছেন তিনি, যা তার পারফরম্যান্সে ব্যতিক্রমী চাপের ইঙ্গিত দেয়।
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের সামগ্রিক পারফরম্যান্সেও এবারের মৌসুমে ধারাবাহিকতা দেখা যায়নি। দলের বোলিং ও ব্যাটিং ইউনিট একাধিক ম্যাচে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে উইকেট না পাওয়ার চাপ ও রান নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা দলের অবস্থানকে প্রভাবিত করেছে।
বুমরাহর এমন ফর্মহ্রাস তার দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ারের ধারাবাহিকতার তুলনায় ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে টানা বহু মৌসুমে তিনি দুই অঙ্কের বেশি উইকেট নিয়ে দলের বোলিং আক্রমণের মূল ভরসা ছিলেন। এবারের পরিসংখ্যান সেই ধারাবাহিকতার বাইরে একটি বিরল মৌসুম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, একজন পেসারের ক্ষেত্রে ফর্ম ও পরিস্থিতিগত পরিবর্তন স্বাভাবিক বিষয়। ম্যাচের চাপ, প্রতিপক্ষের কৌশল এবং দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স অনেক সময় ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানেও প্রভাব ফেলে। এবারের আইপিএলে বুমরাহ সেই ধরনের চ্যালেঞ্জিং সময়ের মধ্য দিয়ে গেছেন, যার প্রতিফলন তার উইকেট ও ইকোনমি রেটে দেখা যাচ্ছে।
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের জন্য এবারের মৌসুমটি প্রত্যাশা অনুযায়ী না হলেও দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বুমরাহ এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার অভিজ্ঞতা এবং পূর্ববর্তী পারফরম্যান্স বিবেচনায় তিনি এখনও ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রধান বোলিং শক্তি হিসেবে বিবেচিত।
