খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ই জুন ২০২৬, ৬:৪৪ পিএম

বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো জলবায়ুজনিত দুর্যোগ থেকে বীমাহীন ক্ষতি আগামী দুই দশকে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে প্রায় ৪১.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মুডিস।
সংস্থাটির নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে জলবায়ু ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে, কিন্তু তার বিপরীতে বীমা কাভারেজ একই হারে বাড়ছে না। ফলে তৈরি হচ্ছে একটি বড় “ইনস্যুরেন্স প্রোটেকশন গ্যাপ”, অর্থাৎ মোট অর্থনৈতিক ক্ষতি ও বীমা কোম্পানির প্রদত্ত ক্ষতিপূরণের মধ্যে ব্যবধান। এই ব্যবধান এখন আর কেবল আর্থিক সমস্যা নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি হয়ে উঠছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বীমাহীন ক্ষতির বোঝা শেষ পর্যন্ত সরাসরি গিয়ে পড়ে সরকার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের ওপর। এতে পুনর্গঠন ব্যয় বাড়ে, উন্নয়ন প্রকল্প ধীর হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মুডিসের বিশ্লেষণ বলছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এসব দেশে বীমা গ্রহণের হার তুলনামূলকভাবে কম, অথচ দ্রুত নগরায়ণ ও অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের কারণে মূল্যবান অবকাঠামো ও সম্পদ দ্রুত তৈরি হচ্ছে। ফলে ঝুঁকি বাড়ছে দ্রুত, কিন্তু সুরক্ষার ব্যবস্থা সেই গতিতে এগোচ্ছে না।
আঞ্চলিক তুলনায় পার্থক্য আরও স্পষ্ট। এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মোট জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৮৩ শতাংশ অংশ বীমার আওতায় আসে। বিপরীতে জি-সেভেন দেশগুলোতে এই হার প্রায় ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যা তুলনামূলকভাবে প্রায় তিন গুণ বেশি সুরক্ষা নির্দেশ করে।
জলবায়ু ঝুঁকি শুধু অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গেও তা গভীরভাবে যুক্ত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মানুষের বসতি স্থাপন বাড়ছে, বিশেষ করে বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে।
২০২০ সালের হিসাবে প্রায় ২.৭ বিলিয়ন মানুষ—অর্থাৎ বিশ্বের প্রতি তিনজনের একজন—এমন এলাকায় বসবাস করছিলেন, যেগুলো বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। এই সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বীমা কাভারেজ সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলা ছাড়া এই বিশাল আর্থিক ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
মন্তব্য