খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই জানুয়ারি ২০২৬, ২:৩০ পিএম

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ ও স্বার্থের দ্বন্দ্বের কারণে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার নির্দেশ আসে বিদেশে পলাতক এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর কাছ থেকে। হত্যার দায়িত্ব নেয় সেই সন্ত্রাসীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. বিল্লাল, যিনি আপন দুই ভাই আব্দুল কাদির ও আবদুর রহিমকে মিশনে যুক্ত করেন।
ডিবি পুলিশের (ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা) মিডিয়া সেন্টারে রোববার সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম জানান, হত্যার পেছনে মূলত ব্যবসায়িক স্বার্থ ও বাজার নিয়ন্ত্রণের বিরোধ জড়িত। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার চারজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে, যা অনুসারে তদন্ত চলমান রয়েছে।
ডিবি পুলিশ জানায়, হত্যায় সরাসরি জড়িত চারজন হলেন:
| গ্রেপ্তারকৃত | পরিচয় | স্থানীয় ঠিকানা | ভূমিকা |
|---|---|---|---|
| জিন্নাত | ব্যক্তি | পঞ্চগড়, আটোয়ারি, মির্জাপুর | শ্যুটার, হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণ |
| মো. বিল্লাল | ব্যক্তি | নরসিংদী, মনোহরদী, গগুলা | হত্যার মিশন বাস্তবায়ক, সহযোগী ভাইদের প্ররোচনা |
| আব্দুল কাদির | ব্যক্তি | নরসিংদী, মনোহরদী, গগুলা | শ্যুটার, বিল্লালের ভাই |
| মো. রিয়াজ | ব্যক্তি | পটুয়াখালী, বাউফল, দ্বিপাশা | রেকি ও সহযোগী |
পলাতক: আব্দুর রহিম, বিল্লাল ও কাদিরের তৃতীয় ভাই, হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত বুধবার রাত সোয়া ৮টার দিকে স্টার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পাশে আহসানউল্লাহ টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গলিতে মুছাব্বিরকে লক্ষ্য করে জিন্নাত ও রহিম গুলি চালায়। ওই সময় তার সঙ্গে থাকা মাসুদ, কারওয়ান বাজার ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক, গুলিবিদ্ধ হন এবং বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ডিবি জানায়, হত্যার আগের দিন আসামিরা ঘটনাস্থল রেকি করেছিল এবং রিয়াজ এ কাজে সহায়তা করেছিল। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি নম্বরহীন মোটরসাইকেল ও ৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা যায়নি।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, কারওয়ান বাজারে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন খাতে চাঁদাবাজি ও ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাত চলে আসছে। সম্প্রতি পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী শেখ মোহাম্মদ আসলাম ওরফে সুইডেন আসলাম ও তার সহযোগী বিনাশ ১৫ লাখ টাকার চুক্তিতে হত্যার নির্দেশ দেন। বিল্লাল তার ভাইদের সঙ্গে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে।
ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম আরও জানান, মুছাব্বিরের রাজনৈতিক পরিচয় না থাকলেও তার জনপ্রিয়তা ও ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণের কারণে তাকে টার্গেট করা হয়েছিল। তিনি মানববন্ধন ও চাঁদাবাজি বিরোধী কর্মকাণ্ডেও অংশগ্রহণ করতেন। হত্যাকাণ্ডের অন্যান্য দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে, পুলিশ গ্রেপ্তার চারজনকে সোমবার আদালতে হাজির করে হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
মন্তব্য