গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া–কোটালীপাড়া) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হাবিবুর রহমান বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। তিনি প্রথম ধাপে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরীর কবর জিয়ারত করে জনসম্মুখে আত্মপ্রকাশ করেন।
হাবিবুর রহমান টুঙ্গিপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির প্রাক্তন সদস্য। দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এর আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি তাঁকে এবং জেলার আরও দুই নেতাকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করেছে। এর ফলে তিন নেতার দলীয় পদসহ প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে।
নিচের টেবিলে গোপালগঞ্জ-৩ আসনের গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীদের তথ্য সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| প্রার্থী | দল | নির্বাচন প্রকার | মনোনয়ন অবস্থা | নির্বাচনী প্রতীক |
|---|---|---|---|---|
| হাবিবুর রহমান | বিএনপি (বিদ্রোহী) | স্বতন্ত্র | মনোনয়ন হয়নি | ফুটবল |
| এস এম জিলানী | বিএনপি | দলীয় | মনোনয়ন পেয়েছেন | চশমা |
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে হাবিবুর রহমান টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গওহরডাঙ্গা খাদেমুল ইসলাম মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরীর কবর জিয়ারত করেন। এরপর তিনি বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সে যান। যদিও মূল গেট বন্ধ থাকায় তিনি ৩ নম্বর গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান। এর পর তিনি নির্বাচনী প্রতীক ‘ফুটবল’ নিয়ে প্রচারণা শুরু করেন।
হাবিবুর রহমান টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বর এবং পাটগাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গণসংযোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে ভোট ও সমর্থনের আবেদন করেন। তিনি বলেন, “গোপালগঞ্জ-৩ বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন। এখানে শায়িত আছেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং আলেম সমাজের উজ্জ্বল নক্ষত্র আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী। তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছি।”
তিনি আরও জানান, ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পর জেলা বিএনপির সদস্য ছিলেন, তবে ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। হাবিবুর রহমান ডাক বিভাগের মাধ্যমে বিএনপির মহাসচিব বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “আমি এলাকার মানুষের জন্য রাজনীতি করতে চাই। সব ধরনের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে মানুষের পাশে দাঁড়াব।”
হাবিবুর রহমানের এই প্রচারণা স্থানীয় রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন উদ্দীপনা যোগ করেছে, যেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাঁর চ্যালেঞ্জ সরাসরি দলীয় প্রার্থীর সঙ্গে হচ্ছে। নির্বাচনী সমীকরণে এই পদক্ষেপ এলাকায় নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে।
