খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই আগস্ট ২০২৬, ৪:৬ পিএম

ঢাকা কলেজে একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কলেজের গ্যালারি-২ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে। ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য ক্যাম্পাসের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও পরে কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে মিছিল করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গ্যালারি-২ এলাকায় একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তেজনাকর হয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার রূপ নেয়। এ সময় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে।
ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ মামুনের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গ্যালারি-২-এ শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা এবং একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। ওই কর্মসূচিকে সামনে রেখে সংগঠনের অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেকের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী অনুষ্ঠানের স্থান সাজানোর কাজ করছিলেন।
মামুনের অভিযোগ, সাজসজ্জার কাজ চলার সময় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পারভেজ মোশারফের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত হন। তার দাবি, ওই সময় তারা আব্দুল মালেকসহ সেখানে থাকা কয়েকজনকে মারধর করেন। এতে আব্দুল মালেক মাথায় গুরুতর আঘাত পান বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ছাত্রশিবিরের এই নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, আহত আব্দুল মালেককে পরে রাজধানীর পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। তবে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা এবং আঘাতের মাত্রা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ঘটনার পর দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে মিছিল করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাদের মিছিলের কারণে ক্যাম্পাসের পরিবেশ কিছু সময়ের জন্য আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে হামলার অভিযোগ করা হলেও ছাত্রদলের বক্তব্য না পাওয়ায় ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় ঠিক কতজন আহত হয়েছেন, তাদের পরিচয় এবং আঘাতের ধরন সম্পর্কেও নির্ভরযোগ্যভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ধরনের ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর অবস্থান এবং ক্যাম্পাস কর্তৃপক্ষের তথ্য যাচাই করে প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণ করা জরুরি। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো পক্ষকে চূড়ান্তভাবে দায়ী করার আগে ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ঢাকা কলেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘাতের ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অনেকের আশঙ্কা, এ ধরনের উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে তাদের নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা এবং অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘাত এড়িয়ে চলা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কোনো পক্ষের কর্মসূচি বা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড যেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের চলাচল ও শিক্ষা কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি না করে, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
ঘটনার পর ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতি যাতে পুনরায় তৈরি না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট ছাত্রসংগঠনগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ এবং পারস্পরিক সহনশীলতার ওপর জোর দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার প্রকৃত কারণ, সংঘর্ষে কারা জড়িত ছিলেন এবং আহতের সঠিক সংখ্যা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য নিশ্চিত হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করাই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
মন্তব্য