জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই আগস্ট ২০২৬, ৪:৩৬ পিএম

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে আট বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে একটি মামলায় মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ রমিজ উদ্দীনকে (৩১) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৭)।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে আনোয়ারা উপজেলার কর্ণফুলী টানেলসংলগ্ন চায়না রোডের বৈরাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার রমিজ উদ্দীন বাঁশখালী দারুচ্ছুন্নাহ খাইরিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আট বছর বয়সী ওই শিশু মাদরাসাটির নাজেরা বিভাগে পড়াশোনা করত। অভিযোগ অনুযায়ী, মাদরাসায় ভর্তি হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রধান শিক্ষক শিশুটিকে ওয়াশরুমে নিয়ে গিয়ে যৌন নিপীড়ন করতেন। শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, সর্বশেষ গত ২৩ জুলাই বিকেলে মাদরাসার ছুটির পর অন্য শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলতে গেলে তাকে এতিমখানার হেফজ বিভাগের দ্বিতীয় তলার একটি শ্রেণিকক্ষে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে বলাৎকার করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, ঘটনার বিষয়টি কাউকে জানালে শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এ কারণে প্রথমদিকে সে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের কাছে প্রকাশ করেনি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি বাড়িতে ফিরে কান্নাকাটি করতে থাকে এবং মাদরাসায় আর যাবে না বলে মাকে জানায়। একপর্যায়ে মায়ের কাছে সে ঘটনার কথা খুলে বলে। এরপর বিষয়টি পরিবারের অন্য সদস্যদের জানানো হয়। শিশুটির বাবা বাদী হয়ে গত ২৯ জুলাই বাঁশখালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পর থেকেই রমিজ উদ্দীন আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে র্যাব। তাকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছিল। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আনোয়ারা এলাকায় তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। সোমবার সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৭-এর একটি দল।
র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফফর হোসেন বলেন, মামলা হওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক ছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয় এবং সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর রমিজ উদ্দীনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাঁশখালী থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের বিষয়টি বর্তমানে আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো মামলার অভিযোগ তদন্ত করবে এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
মন্তব্য