জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই আগস্ট ২০২৬, ৪:২৬ পিএম

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসকে কেন্দ্র করে নাশকতার আশঙ্কায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত কয়েকটি ঝটিকা মিছিলে তাদের সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া এবং অগ্রণী ভূমিকা পালনের তথ্য ও ছবি-ভিডিও পুলিশের হাতে রয়েছে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন ছাত্রলীগের নেতা জামশেদ (২২) এবং যুবলীগের নেতা মেহেদী হাসান শিফাত (২৩)। জামশেদ চন্দনাইশ উপজেলার বরকল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে। মেহেদী হাসান শিফাত একই এলাকার বাসিন্দা ও কামাল উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে ওই দুই ব্যক্তি উপজেলার বরমা ইউনিয়নে সাংগঠনিক কার্যক্রমে গিয়েছিলেন। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন, গ্রেপ্তারের সময় তারা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি। বরকল ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য আনিসুল ইসলাম বলেন, তিনি গ্রেপ্তারের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। স্থানীয়দের কাছ থেকে তিনি শুনেছেন, ওই দুই ব্যক্তি মাদক সেবন করেছিলেন। তবে তাদের কাছে ইয়াবা পাওয়া গেছে—এমন কোনো বক্তব্য তিনি দেননি বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য, তার বক্তব্য বিকৃত করে এমন প্রচার চালানো হচ্ছে।
চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম দিদারুল ইসলাম সিকদার বলেন, সম্প্রতি চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠনের কয়েকটি মিছিলে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের উপস্থিতির ছবি ও ভিডিও পুলিশের হাতে রয়েছে। এসব মিছিলে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মিজানুর রহমানের সঙ্গে তাদের দেখা গেছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশের ভাষ্য, ৫ আগস্টকে ঘিরে কোনো ধরনের নাশকতা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সম্ভাব্য সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সন্দেহভাজন তৎপরতার ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
ওসি এস এম দিদারুল ইসলাম সিকদার আরও বলেন, ৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া হবে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তিকে সোমবার আদালতে হাজির করা হলে বিচারিক আদেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। তবে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা ও তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। আইনগত প্রক্রিয়ায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দোষী হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
মন্তব্য