বলিউডে ক্ষমতার পরিবর্তন তাঁর কাজের পথে প্রভাব ফেলেছে, ইঙ্গিত দিলেন এ আর রহমান

অস্কার বিজয়ী সুরকার এ.আর. রহমান সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন যে, গত আট বছরে হিন্দি চলচ্চিত্রে একটি দৃশ্যমান ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটেছে, যা সম্ভবত “একটি সাম্প্রদায়িক বিষয়” হিসেবে রূপান্তরিত হয়েছে। এই পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি তার কাজের ধরন ও সুযোগে পড়েছে, এমনটিই জানিয়েছেন তিনি।

বাংলা ভাষায় “মাদ্রাসের মোজার্ট” নামে খ্যাত রহমান বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্ককে বলেছেন, “হয়তো আমি আগেই কিছু বুঝিনি, হয়তো ঈশ্বরের ইচ্ছায় তা আমাকে দেখা যায়নি। কিন্তু গত আট বছরে ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে। এখন যারা ক্ষমতায় আছে, তারা অনেকটা সৃজনশীল নয়। এটি হয়তো সাম্প্রদায়িকভাবেও প্রভাবিত… তবে তা সরাসরি আমার সামনে ঘটেনি।”

রাহমানের ক্যারিয়ারের এক বড় মাইলফলক ছিল সুভাষ ঘাইয়ের ‘তাল’ চলচ্চিত্র। তিনি বলেন, “‘তাল’ এমন এক ধরনের সঙ্গীত যা প্রত্যেকের হৃদয়ে গেঁথে আছে। উত্তর ভারতের মানুষের মধ্যেও এখনও এটি রক্তে মিশে আছে, কারণ এতে রয়েছে পাঞ্জাবি, হিন্দি এবং পাহাড়ি সঙ্গীতের অনন্য মিশ্রণ।”

১৯৯০-এর দশকে হিন্দি চলচ্চিত্রে দক্ষিণ ভারতীয় বা তামিল শিল্পীদের প্রতি কোনো বৈষম্য বা পক্ষপাতিত্বের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, রহমান জানিয়েছেন যে সে সময় তিনি মূলত insulated ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে। তিনি বলেন, “কখনও শুনেছি, আপনাকে বুক করা হয়েছে, কিন্তু মিউজিক কোম্পানি তাদের পাঁচজন কম্পোজার নিয়েছে। তবে আমি বলি, ভালো—এতে আমি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারি। আমি কাজের খোঁজে নেই; আমি চাই কাজ আমার কাছে আসুক। আমার সততা অনুযায়ী যা প্রাপ্য, তাই আমি পাই।”

রাহমানের বলিউড ক্যারিয়ার ‘তাল’-এর মাধ্যমে শুরু হয়, যা তাকে সমগ্র ভারতবাসীর কাছে পরিচিতি এনে দেয়। এরপর তিনি ‘রোজা’, ‘বোম্বে’, ‘দিল সে’সহ একাধিক ভাষার সিনেমার জন্য সঙ্গীত রচনা করেছেন এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রের সঙ্গীতকে নতুন দিশা দিয়েছেন।

আসন্ন চলচ্চিত্র ও প্রকল্পসমূহ

চলচ্চিত্র/প্রকল্পপরিচালকপ্রধান অভিনেতা/অভিনেত্রীরিলিজ তারিখ/পরিকল্পনা
Gandhi Talks (তামিল)কিশোর পান্ডুরাং বেলেকরবিজয় সেতুপতি, অরবিন্দ স্বামী, আদিতি রাও হিদারি, সিধার্থ জাধব৩০ জানুয়ারি ২০২৬
Ramayanaনিতেশ তিওয়ারিরণবীর কাপুর, সাই পল্লবী, সানি দেওল, ইয়শ২০২৬ সালে পরিকল্পিত বাণিজ্যিক মুক্তি

এছাড়াও, রহমান গ্র্যামি বিজয়ী সুরকার হ্যান্স জিমারের সঙ্গে ‘রামায়ণ’ প্রকল্পে যুক্ত রয়েছেন। এই চলচ্চিত্রটি ভারতীয় পুরাণভিত্তিক মহাকাব্যিক কাহিনী আধারিত, যেখানে নতুন এবং অভিজ্ঞ অভিনেতাদের সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে।

রাহমানের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ ও কর্মকাণ্ড স্পষ্টভাবে দেখায় যে, তিনি শুধুমাত্র অতীতের সাফল্য নিয়ে সন্তুষ্ট নন; বরং ভবিষ্যতের প্রকল্পগুলিতে তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রের সঙ্গীতের প্রেক্ষাপটকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে চাইছেন। তার এই দৃষ্টিভঙ্গি এবং সততা তাকে বর্তমানে চলচ্চিত্র জগতে একটি স্বতন্ত্র ও প্রভাবশালী স্থানে রেখেছে।