খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই মে ২০২৬, ১১:১৬ এএম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং নাগরিক ভোগান্তি নিরসনে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। বাসাবাড়ি থেকে নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং নিয়মিত বর্জ্য অপসারণে অবহেলা করলে সংশ্লিষ্ট বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বা লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। গতকাল সোমবার রাজধানীর নগর ভবনের মিলনায়তনে বর্জ্য সংগ্রহকারী নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এই হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।
প্রশাসক মো. আবদুস সালাম সভায় সভাপতির বক্তব্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান বিভিন্ন অনিয়ম ও নাগরিক অভিযোগের বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রাপ্ত অভিযোগে দেখা গেছে, অনেক প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান সিটি করপোরেশন নির্ধারিত মাসিক বিলের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা আদায় করছে। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে প্রতিদিনের বর্জ্য প্রতিদিন সংগ্রহ করা হচ্ছে না, যার ফলে নগরীর পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। প্রশাসক স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেন যে, প্রতিটি ফ্ল্যাট বা বাসাবাড়ি থেকে মাসিক সেবা মূল্য হিসেবে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা গ্রহণ করতে হবে এবং এই অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই সিটি করপোরেশন নির্ধারিত রসিদ ব্যবহার করতে হবে।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানির বর্জ্য দ্রুততম সময়ে অপসারণ নিশ্চিত করতে সভায় বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। প্রশাসক জানান, ঈদের তিন দিন কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারী ছুটিতে থাকতে পারবেন না। প্রতিটি ওয়ার্ড সম্পূর্ণ বর্জ্যমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখতে হবে।
বর্জ্য সংগ্রহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সিটি করপোরেশন নির্ধারিত নির্দেশনাবলী নিচে ছক আকারে দেওয়া হলো:
| ক্রমিক | বিষয় | নির্ধারিত নির্দেশনা ও শর্তাবলী |
| ১ | মাসিক সেবা মূল্য | প্রতিটি ফ্ল্যাট বা বাসাবাড়ি থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা। |
| ২ | অর্থ আদায়ের মাধ্যম | সিটি করপোরেশন কর্তৃক নির্ধারিত বৈধ রসিদ। |
| ৩ | বর্জ্য সংগ্রহের সময় | প্রতিদিনের বর্জ্য প্রতিদিন সংগ্রহ বা ‘দিনের বর্জ্য দিনে অপসারণ’। |
| ৪ | ঈদের বিশেষ দায়িত্ব | কোরবানি পরবর্তী তিন দিন নিরবচ্ছিন্ন কর্মতৎপরতা। |
| ৫ | জনবল ও সরঞ্জাম | প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত ভ্যান ও শ্রমিকের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ। |
| ৬ | শাস্তিমূলক ব্যবস্থা | শর্ত ভঙ্গ করলে নিবন্ধন বা লাইসেন্স তাৎক্ষণিক বাতিল। |
মতবিনিময় সভায় জানানো হয় যে, কেবল ঠিকাদারদের শাস্তি প্রদানই নয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। কোনো বাসা বা প্রতিষ্ঠান থেকে যদি ময়লা-আবর্জনা নির্ধারিত স্থানে না রেখে রাস্তা, নর্দমা কিংবা খালে ফেলা হয়, তবে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসক আবদুস সালাম পিসিএসপি ঠিকাদারদের সরাসরি মাঠে উপস্থিত থেকে কাজ তদারকি করার নির্দেশ দেন এবং কর্মীদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান ও নাগরিকদের সঙ্গে মার্জিত ব্যবহারের পরামর্শ প্রদান করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেবল একটি ব্যবসায়িক চুক্তি নয়, এটি একটি মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব। যারা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে নাগরিক ভোগান্তি সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই কঠোর অবস্থানের ফলে নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও বেগবান হবে।
মন্তব্য