খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই জুন ২০২৬, ১২:৪৮ এএম

বরগুনা সদর উপজেলায় ঝড়ের কবলে পুকুরে ছিঁড়ে পড়া বৈদ্যুতিক তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক নারী ও তাঁর দুই বছর বয়সী শিশু সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) বিকেলে বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের রায়ভোগ এলাকার নিজ বাড়ির পুকুর থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ প্রচেষ্টায় পুকুর থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
পুলিশ, নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্র থেকে প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি হয়।
ঘটনার বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
তার ছিঁড়ে পড়া: ঝড়ের তাণ্ডবে সদর উপজেলার রায়ভোগ এলাকার বাসিন্দা মো. মিরাজের বাড়ির একটি গাছ উপড়ে পল্লী বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পুকুরে পড়ে যায়।
দৃষ্টিগোচর না হওয়া: রাতের অন্ধকারের কারণে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পুকুরে পড়ে থাকার বিষয়টি বাড়ির বা এলাকার কেউ টের পাননি।
দুর্ঘটনার মুহূর্ত: বুধবার দুপুরের দিকে মিরাজের স্ত্রী নুপুর আক্তার তাঁর দুই বছর বয়সী শিশু সন্তান শাহাদাতকে সাথে নিয়ে ওই পুকুরে গেলে তারা ছেঁড়া তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং পানির মধ্যেই মারা যান।
পুকুরে মা ও ছেলের মৃত্যুর বিষয়টি বেশ কিছুক্ষণ যাবৎ পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেননি। এরপর বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে বরগুনা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মীরা ওই এলাকায় ছিঁড়ে পড়া বৈদ্যুতিক তার মেরামত করতে আসেন। তারা মো. মিরাজের বাড়ির পুকুরের মধ্যে নুপুর ও শাহাদাতের মরদেহ দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুকুর থেকে মা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেন।
স্বজনদের জবানবন্দি:
নিহত নুপুর আক্তারের দেবর মো. সাইফুল বলেন, “গতকাল রাতে ঝড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পুকুরে পড়ে ছিল। আমি সকালে কাজ করতে গিয়েছিলাম। বাড়িতে এসে দেখি ভাইয়ের স্ত্রী ও তার ছোট ছেলে পুকুরে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন।”
নিহতদের আরেক স্বজন আব্দুল মন্নান বলেন, “ঝড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পুকুরে পড়ে ছিল, কিন্তু তা কেউ জানতেন না। ছেলেকে নিয়ে নুপুর পুকুরে গেলে তারা ওই তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। বিকেলে বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন তার ঠিক করতে এসে তাদের দেখতে পায়।”
এই দুর্ঘটনার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন বরগুনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম।
ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি এবং বর্তমান আইনি পদক্ষেপের খতিয়ান:
| বিষয় | বিবরণ ও বর্তমান অবস্থা |
| নিহতদের পরিচয় | নুপুর আক্তার (মো. মিরাজের স্ত্রী) এবং শাহাদাত (বয়স ২ বছর)। |
| মরদেহ উদ্ধার | খবর পেয়ে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল বিকেল ৩টার পর ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। |
| বর্তমান আইনি অবস্থা | সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। |
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম গণমাধ্যমকে জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ফায়ার সার্ভিসকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করেছে পুলিশ। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং এই ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মন্তব্য