জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৭ এএম

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের স্বস্তির বার্তা নিয়ে প্রবাসীদের পাঠানো আয়ে জোর হাওয়া বইছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্ট মাসের প্রথম তিন দিনেই প্রবাসীরা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে পাঠিয়েছেন ৪০৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত বছরের আগস্টের প্রথম তিন দিনে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিল ২২০ মিলিয়ন ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে এই শুরুর সময়সীমায় প্রবাসী আয়ের গতি দ্বিগুণ বাড়ার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার ও ব্যাংক খাতের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ হুন্ডি পরিহার করে বৈ বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে প্রবাসীদের আগ্রহ লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। রেমিট্যান্স আসার এই ধারাবাহিক গতি এতটাই তীব্র যে, কেবল ৩ আগস্ট একদিনেই দেশে এসে পৌঁছেছে ১৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে প্রতিনিয়ত যে ডলার সংকট তৈরি হয়, প্রতিদিনের এই বিশাল পরিমাণ প্রবাসী আয় তা কাটিয়ে উঠতে এবং ব্যাংকিং খাতের তারল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরাসরি ভূমিকা রাখছে।
চলতি অর্থবছরের সূচনালগ্ন থেকেই প্রবাসী আয়ের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। নতুন বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ গত ১ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে দেশে সর্বমোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ দশমিক ২৬৫ বিলিয়ন (৩২৬ কোটি ৫০ লাখ) মার্কিন ডলার। এর বিপরীতে গত বছরের ঠিক একই সময়সীমায় (১ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট) দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ দশমিক ৬৯৮ বিলিয়ন (২৬৯ কোটি ৮০ লাখ) মার্কিন ডলার। এই দুই সময়সীমার হিসাব তুলনা করলে দেখা যায়, জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত ব্যাংকিং চ্যানেলে আসা রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় শতকরা ২০ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রবাসী আয়ে এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ শক্তিশালী করতে এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। ব্যাংকিং মাধ্যমে সহজে টাকা পাঠানোর পরিবেশ নিশ্চিত করা, দ্রুত অর্থ স্থানান্তর এবং সরকারি প্রণোদনার ইতিবাচক প্রভাবেই প্রবাসীরা এখন বৈধ পথে লেনদেনে বেশি উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। অর্থবছরের শুরুতে অর্জিত এই ধারাবাহিকতা আগামী দিনগুলোতে দেশের আমদানিনির্ভর অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।
মন্তব্য