খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই মে ২০২৬, ১১:৪৫ পিএম

রাজধানীর বংশাল থানাধীন নয়াবাজার এলাকার বাগডাসা লেনের একটি বাসা থেকে নিসার আলী (৫০) নামের এক ব্যবসায়ীর হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পাঁচতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকালে নিসার আলীর মরদেহ খাটের ওপর চিত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর হাত গামছা দিয়ে এবং পা একইভাবে গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল। এছাড়া মুখ জানালার পর্দা দিয়ে বাঁধা অবস্থায় ছিল বলে পুলিশ জানায়। ঘটনাস্থলে প্রাথমিকভাবে মরদেহের বাহ্যিক অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
নিহত নিসার আলী যশোর জেলার শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর পিতার নাম মৃত হযরত আলী মুন্সী। তিনি রাজধানীর নয়াবাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় একা বসবাস করতেন। তিন মাস আগে তিনি ওই বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন বলে জানা যায়। পেশাগতভাবে তিনি ইসলামপুর এলাকায় কাপড়ের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার বেলা ১টার দিকে বাসার মালিক মোহাম্মদ হোসেন বাবু ওই কক্ষে লাইট জ্বলতে দেখেন। এরপর তিনি ভাড়াটিয়ার কক্ষে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি আশপাশের প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানান। পরে ৯৯৯-এ কল করে জাতীয় জরুরি সেবার মাধ্যমে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে বংশাল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মরদেহ উদ্ধার করে।
বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল ওহাব জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে পাঁচতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার কক্ষে দরজা ভেঙে প্রবেশ করতে হয়। ভেতরে প্রবেশের পর খাটের ওপর নিসার আলীর মরদেহ পাওয়া যায়। তাঁর হাত-পা গামছা দিয়ে এবং মুখ পর্দা দিয়ে বাঁধা অবস্থায় ছিল। তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সোমবার রাত ১১টা থেকে মঙ্গলবার বেলা ১টার মধ্যবর্তী যেকোনো সময় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে।
ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর ক্রাইমসিন ইউনিট উপস্থিত হয়ে আলামত সংগ্রহ করে। তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। মরদেহটি পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নিহত ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং তাদেরকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করার তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মন্তব্য