খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই জুলাই ২০২৬, ৪:৪২ পিএম

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেন ও ফ্রান্সের বহুল প্রতীক্ষিত লড়াইয়ের আগে মাঠের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কেও। ফ্রান্স জাতীয় দল নিয়ে স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাহয়ের একটি মন্তব্য ঘিরে দুই দেশেই শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।
২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা রাহয় স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম -এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে ফ্রান্স দল নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন। সেখানে তিনি স্বীকার করেন, ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা ফ্রান্সের দলে অসাধারণ প্রতিভাবান ও বিশ্বমানের ফুটবলার রয়েছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ফ্রান্সের দলে ‘কোনো ফরাসি খেলোয়াড় নেই’, যদিও দলটি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করছে।
রাহয়ের এই মন্তব্য প্রকাশের পরপরই ফ্রান্সে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনের একাধিক নেতা তার বক্তব্যকে বিভাজনমূলক ও বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের মতে, একটি জাতীয় দলের পরিচয় শুধু খেলোয়াড়দের পারিবারিক শিকড় বা পূর্বপুরুষের পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে না; বরং তারা যে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন, সেই দেশের নাগরিক হিসেবেই তাদের পরিচয় নির্ধারিত হয়।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ রোববার বিএফএম টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাহয়ের বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ফ্রান্সের শক্তি তার বৈচিত্র্যের মধ্যে নিহিত। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক পটভূমি থেকে আসা মানুষ দেশটির সমাজ ও ক্রীড়াঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তার মতে, জাতীয় দলের সদস্যদের নিয়ে এমন মন্তব্য ফ্রান্সের মূল মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
রাহয়ের মন্তব্যের সমালোচনা শুধু ফ্রান্সেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, স্পেনেও এ নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে দায়িত্বশীল রাজনীতিকের মন্তব্য নয় বলে আখ্যা দেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দীর্ঘদিন দেশের নেতৃত্ব দেওয়া একজন রাজনীতিকের কাছ থেকে এমন মন্তব্য কতটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
স্পেনের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এখনো এমন কিছু মানুষ আছেন যারা একটি দেশের নাগরিকত্বকে জন্মস্থান, পরিচয় বা বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বিচার করেন। তার মতে, একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারিত হওয়া উচিত দেশটির প্রতি তার দায়িত্ববোধ, ভালোবাসা এবং অবদানের মাধ্যমে।
ফ্রান্স জাতীয় দলের বৈচিত্র্য বহু বছর ধরেই আন্তর্জাতিক ফুটবলের আলোচনার বিষয়। আফ্রিকান ও অন্যান্য অভিবাসী পরিবারের সন্তানরা ফ্রান্সের ফুটবলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দল থেকে শুরু করে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী এবং বর্তমান প্রজন্মের দলেও বিভিন্ন পটভূমির খেলোয়াড়রা ফ্রান্সকে প্রতিনিধিত্ব করছেন।
স্পেন ও ফ্রান্সের সেমিফাইনাল ম্যাচ এখন শুধু শিরোপার লড়াই নয়, বরং দুই দেশের ফুটবল দর্শকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেওয়া একটি ঘটনাতেও পরিণত হয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে দুই দলের খেলোয়াড়রা মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই নিজেদের প্রমাণ করতে প্রস্তুত।
মন্তব্য