খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই জুলাই ২০২৬, ৫:৩৮ পিএম

পপ সংগীতের কিংবদন্তি মাইকেল জ্যাকসনের জীবন ও সংগীতনির্ভর বায়োপিক ‘মাইকেল’ বিশ্বজুড়ে বক্স অফিসে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। মুক্তির পর দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহ, দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী সাড়া পাওয়ার ফলে সিনেমাটির বৈশ্বিক আয় ১ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। এর মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় যুক্ত হলো।
জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্রের জগতে এমন সাফল্য অত্যন্ত বিরল। ‘মাইকেল’ এখন বিশ্বের প্রথম বায়োপিক, যা বিশ্বব্যাপী টিকিট বিক্রি থেকে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করার কৃতিত্ব অর্জন করেছে। মুক্তির আগে সিনেমাটি নিয়ে নানা আলোচনা, প্রত্যাশা এবং বিতর্ক থাকলেও প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর দর্শকদের উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া সেই সব বিষয়কে ছাপিয়ে গেছে।
বক্স অফিসের হিসাব অনুযায়ী, সিনেমাটি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আয় করেছে প্রায় ৬২৯.৮ মিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে এর আয় দাঁড়িয়েছে ৩৭১.৮ মিলিয়ন ডলারে। সব মিলিয়ে ‘মাইকেল’-এর বৈশ্বিক আয় এখন প্রায় ১.০০১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
| বিষয় | পরিমাণ |
|---|---|
| বিশ্বব্যাপী মোট আয় | প্রায় ১.০০১ বিলিয়ন ডলার |
| আন্তর্জাতিক বাজারের আয় | ৬২৯.৮ মিলিয়ন ডলার |
| যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের আয় | ৩৭১.৮ মিলিয়ন ডলার |
| মুক্তির প্রথম সপ্তাহের আয় | ২১৭ মিলিয়ন ডলার |
| ভাঙা রেকর্ড | ‘স্ট্রেইট আউটা কম্পটন’-এর প্রথম সপ্তাহের আয় |
| পেছনে ফেলা সিনেমা | ‘ওপেনহাইমার’ |
| ‘ওপেনহাইমার’-এর বৈশ্বিক আয় | ৯৭৫ মিলিয়ন ডলার |
| পেছনে ফেলা সংগীতভিত্তিক বায়োপিক | ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’ |
| ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’-এর পূর্বের অবস্থান | সবচেয়ে সফল সংগীতভিত্তিক বায়োপিক |
| প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নতুন অর্জন | ১ বিলিয়ন ডলারের ক্লাবে প্রথম প্রবেশ |
| পরিচালনা | অ্যান্টোইন ফুকা |
| প্রধান চরিত্রে অভিনয় | জাফর জ্যাকসন |
মুক্তির প্রথম সপ্তাহ থেকেই ‘মাইকেল’ বক্স অফিসে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে। বিশ্বব্যাপী প্রথম সপ্তাহ শেষে সিনেমাটি আয় করে ২১৭ মিলিয়ন ডলার। এর মাধ্যমে ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া জনপ্রিয় সংগীতভিত্তিক বায়োপিক ‘স্ট্রেইট আউটা কম্পটন’-এর প্রথম সপ্তাহের আয়ের রেকর্ডও ভেঙে দেয়।
বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন সিনেমার ব্যস্ত মৌসুমে এই সাফল্যকে বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণত এই সময়ে বড় বাজেটের অ্যাকশন, সুপারহিরো কিংবা কল্পনাভিত্তিক সিনেমাগুলো বক্স অফিসে আধিপত্য বিস্তার করে। কিন্তু ‘মাইকেল’ প্রমাণ করেছে, শক্তিশালী গল্প, পরিচিত ব্যক্তিত্ব এবং দর্শকের আবেগের সঙ্গে যুক্ত বিষয়বস্তু থাকলে সংগীতভিত্তিক চলচ্চিত্রও বিশ্বব্যাপী বড় সাফল্য পেতে পারে।
সিনেমাটির আরেকটি বড় সাফল্য হলো, এটি বাস্তব কোনো ব্যক্তির জীবন নিয়ে নির্মিত সবচেয়ে বেশি আয়কারী চলচ্চিত্রের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে। এর আগে ক্রিস্টোফার নোলানের ২০২৩ সালের আলোচিত সিনেমা ‘ওপেনহাইমার’ প্রায় ৯৭৫ মিলিয়ন ডলার আয় করে এই ক্ষেত্রে অন্যতম সফল চলচ্চিত্র হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। ‘মাইকেল’ সেই রেকর্ড অতিক্রম করেছে।
একই সঙ্গে এটি পেছনে ফেলেছে ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’-কে। কুইন ব্যান্ডের প্রধান গায়ক ফ্রেডি মার্কারির জীবনভিত্তিক এই সিনেমাটি দীর্ঘদিন ধরে সবচেয়ে সফল সংগীতশিল্পীভিত্তিক বায়োপিক হিসেবে পরিচিত ছিল। মাইকেল জ্যাকসনের জীবন নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রটি এখন সেই তালিকার নতুন শীর্ষস্থান দখল করেছে।
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান লায়ন্সগেটের জন্যও ‘মাইকেল’ একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। এটি প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমা এবং একই সঙ্গে লায়ন্সগেটের প্রথম চলচ্চিত্র, যা ১ বিলিয়ন ডলারের আয় করা সিনেমার তালিকায় প্রবেশ করেছে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বেশি আয়কারী সিনেমা ছিল ২০১৩ সালের ‘দ্য হাঙ্গার গেমস: ক্যাচিং ফায়ার’।
পরিচালক অ্যান্টোইন ফুকা সিনেমাটিতে মাইকেল জ্যাকসনের দীর্ঘ সংগীতযাত্রাকে তুলে ধরেছেন। গল্পে উঠে এসেছে তার শৈশবের সংগীতদল ‘জ্যাকসন ফাইভ’-এর দিনগুলো থেকে শুরু করে বিশ্ব সংগীতের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পী হয়ে ওঠার সংগ্রাম ও সাফল্যের কাহিনি। মঞ্চ পরিবেশনা, জনপ্রিয়তার উত্থান এবং শিল্পী হিসেবে তার বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলো সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
সিনেমাটির সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি হলো মাইকেল জ্যাকসনের পরিবারের সদস্যের অভিনয়। তার বাস্তব জীবনের ভাগ্নে জাফর জ্যাকসন এই চলচ্চিত্রে মাইকেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এটি তার অভিনয়জীবনের প্রথম বড় পর্দার কাজ। চরিত্রটির মাধ্যমে তিনি মাইকেলের কণ্ঠস্বর, ব্যক্তিত্ব, মঞ্চ উপস্থিতি এবং শিল্পীসত্তাকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।
এ ছাড়া মাইকেল জ্যাকসনের বাবা জো জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন কোলম্যান ডোমিঙ্গো এবং মা ক্যাথরিন জ্যাকসনের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন নিয়াহ লং। তাদের অভিনয়ও দর্শকদের মধ্যে প্রশংসা ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
‘মাইকেল’-এর বাণিজ্যিক সাফল্যের পর মাইকেল জ্যাকসনের জীবন ও সংগীত নিয়ে আরও চলচ্চিত্র নির্মাণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের বিভিন্ন অজানা অধ্যায়, সৃজনশীলতা এবং বিশ্ব সংগীতে তার প্রভাব নিয়ে ভবিষ্যতে নতুন প্রকল্প আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই সাফল্য শুধু একটি চলচ্চিত্রের আর্থিক অর্জন নয়; এটি বিশ্বজুড়ে মাইকেল জ্যাকসনের সংগীত, জনপ্রিয়তা এবং সাংস্কৃতিক প্রভাবের স্থায়ী শক্তিরও প্রতিফলন। বহু বছর পরও তার শিল্পীসত্তা যে কোটি মানুষের কাছে সমানভাবে আকর্ষণীয়, ‘মাইকেল’-এর ঐতিহাসিক বক্স অফিস সাফল্য তারই আরেকটি প্রমাণ।
মন্তব্য