২৮ বছর পর ফিফা বিশ্বকাপে ফিরে নরওয়ে যে স্বপ্নের যাত্রা শুরু করেছিল, তা শেষ হয়েছে হতাশার মধ্য দিয়ে। তবে ইতিহাস গড়া এই অভিযানের জন্য সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ভুললেন না দলটির অধিনায়ক ও তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড।
শনিবার রাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় নরওয়ে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে দুই দল সমতায় থাকলেও অতিরিক্ত সময়ে ইংল্যান্ডের জয়সূচক গোল নরওয়ের স্বপ্নযাত্রা থামিয়ে দেয়। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ আটে পৌঁছানোর গৌরব অর্জন করলেও শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালের মঞ্চে জায়গা করে নিতে পারেনি ইউরোপের দলটি।
পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন হালান্ড। নিজের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লেখেন, ‘এটি ছিল সত্যিই অসাধারণ একটি যাত্রা। আমাদের এই পথচলাকে এতটা স্মরণীয় করে তোলার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।’
হালান্ডের এই আবেগঘন বার্তা প্রকাশের পর দ্রুতই তা সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। নরওয়ের ফুটবলপ্রেমীরা দলের ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন এবং অধিনায়কের নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
বিশ্বকাপের ফলাফল নরওয়ের জন্য প্রত্যাশামতো না হলেও ব্যক্তিগতভাবে দুর্দান্ত একটি টুর্নামেন্ট কাটিয়েছেন ২৫ বছর বয়সী হালান্ড। পাঁচ ম্যাচে সাত গোল করে তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের পর তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। তার ধারাবাহিক গোল করার ক্ষমতা নরওয়ের আক্রমণভাগকে পুরো প্রতিযোগিতাজুড়ে শক্তিশালী করে তুলেছিল।
বিশেষ করে শেষ ষোলোতে ব্রাজিলের বিপক্ষে হালান্ডের পারফরম্যান্স ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে করা তার জোড়া গোল নরওয়েকে ঐতিহাসিকভাবে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে দেয়। একই সঙ্গে ব্রাজিলকে ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ আটে ওঠার আগেই বিদায় নিতে হয়।
নরওয়ের এই বিশ্বকাপ অভিযান শুধু ফলাফলের বিচারে নয়, ইতিহাসের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের মূল পর্বে অংশ নেওয়া দলটি শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানো নরওয়ের ফুটবলের জন্য নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিয়েছে।
হালান্ডের নেতৃত্ব, গোল করার দক্ষতা এবং দলের প্রতি তার দায়বদ্ধতা এবারের বিশ্বকাপে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। টুর্নামেন্ট শেষ হলেও নরওয়ের ফুটবলে এই অভিযানের প্রভাব দীর্ঘদিন থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। আগামী দিনে আরও বড় মঞ্চে সাফল্যের লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যেতে চাইবে হালান্ডের নেতৃত্বাধীন দলটি।









