খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৭ এএম

সম্প্রতি রাজধানী ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পেশাদার ‘শ্যুটারদের’ একের পর এক হত্যাকাণ্ড জনমনে ভয় সৃষ্টি করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) একাধিক জরুরি বৈঠক করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন গোষ্ঠীর আধিপত্য বিস্তারের লড়াই তীব্র হয়ে উঠেছে, যার ফলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা না বাড়ালে হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সর্বশেষ ঘটনা ঘটে রাজধানীর ফার্মগেটের তেজতুরী বাজার এলাকায়। ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মোছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদেরকে ‘কিলার গ্রুপের’ সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডগুলোর সঙ্গে পেশাদার সন্ত্রাসীদের যোগসূত্র রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ:
| তারিখ | স্থান | নিহত | সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| ১০ নভেম্বর | আদালত এলাকা, ঢাকা | তারিক সাইফ মামুন | পেশাদার ‘শ্যুটার’ | অপরাধজগতের দ্বন্দ্বে হত্যা |
| ১২ ডিসেম্বর | পুরানা পল্টন, ঢাকা | শরিফ ওসমান হাদি | পেশাদার সন্ত্রাসী দল | ৯টি হত্যার সঙ্গে যোগসূত্র |
| তারিখ উল্লেখ নেই | চট্টগ্রাম | সারওয়ার হোসেন বাবল | প্রতিপক্ষের ‘শ্যুটার’ | নির্বাচনী প্রেক্ষিতে হত্যাকাণ্ড |
| সম্প্রতি | ফার্মগেট, ঢাকা | আজিজুর রহমান মোছাব্বির | কিলার গ্রুপের সদস্য | আধিপত্য লড়াই |
পুলিশ ও আদালতের সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর অন্তত ছয়জন শীর্ষ সন্ত্রাসী দীর্ঘ কারাবাসের পর জামিনে মুক্তি পান। এর মধ্যে রয়েছেন সুইডেন আসলাম, হাজারীবাগের সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমন, মিরপুরের ‘কিলার আব্বাস’ আব্বাস আলী, মোহাম্মদপুরের ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন এবং খোরশেদ আলম ওরফে ফ্রিডম রাসু। এই ব্যক্তিরা দেশ ও দেশের বাইরে থেকে অপরাধজগত নিয়ন্ত্রণ করছেন।
গোয়েন্দা সূত্র বলছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের সহযোগী রনি সাম্প্রতিক মামুন হত্যার সার্বিক পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। নিহতের স্ত্রী বিলকিস আক্তার দীপা জানান, ‘ইমনের নির্দেশেই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি বলেন, “এখন পরিস্থিতি নির্বাচনে কী প্রভাব ফেলবে, তা বলা মুশকিল। কে মারা গেল, তার ওপর নির্ভর করে।” পাশাপাশি পুলিশ সূত্রে সতর্ক করা হচ্ছে, কিছু রাজনৈতিক নেতা নির্বাচনী সময়ে অপরাধ চক্রগুলিকে ‘ভাড়াটে পেশিশক্তি’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
সম্প্রতি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও তৎপরতার পরিকল্পনা করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু গোয়েন্দা অভিযান নয়, নির্বাচনী এলাকায় নিরাপত্তা বৃদ্ধিও জরুরি, না হলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আরও ভয়াবহ মাত্রা অর্জন করতে পারে।
মন্তব্য