খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ই জুলাই ২০২৬, ১:১৩ পিএম

মানিকগঞ্জ শহরের পোড়রা এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ এক আওয়ামী লীগ নেতা ও আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর নাম তৌহিদুর রহমান বাবু। তিনি মানিকগঞ্জ পৌরসভার পোড়রা এলাকার মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সদর থানা পুলিশ তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রায় সাত কেজি ওজনের একটি জীবন্ত গাঁজা গাছ উদ্ধার করে। একই অভিযানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এক নারীকেও আটক করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আইনজীবী তৌহিদুর রহমান বাবু দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। ঘটনার দিন এক নারীকে তিনি নিজের বাড়িতে ডেকে আনেন। পরে ওই নারী সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছেন বলে জানতে পারেন তাঁর স্বামী। নিজের স্ত্রীকে উদ্ধার করতে তিনি তৌহিদুর রহমানের বাড়িতে যান। তখন ক্ষিপ্ত হয়ে তৌহিদুর রহমান বাবু চাকু দিয়ে ওই নারীর স্বামীকে আঘাত করেন। জখম অবস্থায় ওই ব্যক্তি দ্রুত মানিকগঞ্জ সদর থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান।
অভিযোগ পেয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশের একটি দল বিকেলেই পোড়রা এলাকায় তৌহিদুর রহমানের বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই নারী এবং তৌহিদুর রহমান বাবুকে আটক করে। থানায় নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় বাবু তাঁর বাড়ির পেছনের জমিতে গাঁজা চাষ করার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ পুনরায় ওই বাড়িতে তল্লাশি চালায়। এ সময় বাড়ির পেছনের বাগান থেকে একটি বিশাল আকৃতির সতেজ গাঁজা গাছ উপড়ে ফেলা হয়। গাছটি ওজন করে দেখা যায়, সেটির ওজন প্রায় সাত কেজি।
আইনজীবী তৌহিদুর রহমান বাবু স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। একজন পেশাদার আইনজীবী এবং রাজনৈতিক নেতা হয়েও বাড়ির আঙিনায় মাদক চাষ এবং নারীঘটিত এই কেলেঙ্কারির ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একজন আইনের মানুষের ঘরে এমন বেআইনি কাজ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রায় সাত কেজি ওজনের গাঁজা গাছসহ এক আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার অপরাধে পৃথক ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। আটক নারী ও আইনজীবীকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে এবং তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য