চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে এক মর্মান্তিক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে, যেখানে একমাত্র ছেলের হাতে পিতা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের পূর্ব অলিনগর বিশ্বটিলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
নিহত ব্যক্তির নাম আবু আহমদ (৬৫)। তিনি একই এলাকার মৃত নুর ইসলামের সন্তান এবং পেশায় একজন কৃষক ছিলেন। বয়সজনিত অসুস্থতা ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় কৃষিকাজে অংশ নিতে পারছিলেন না বলে জানা গেছে। পরিবারের একমাত্র ছেলে ইব্রাহিম মিলন (৩৫) স্থানীয়ভাবে বাঁশ ও কাঠের ব্যবসা এবং বিভিন্ন শ্রমমূলক কাজে যুক্ত থাকলেও তার বিরুদ্ধে মাদকাসক্তি ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের বরাতে জানা যায়, পারিবারিক কলহ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। বিশেষ করে ছেলের জীবনযাপন, মাদকাসক্তি এবং পরিবার থেকে আলাদা হয়ে থাকার ইচ্ছা নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে বিরোধ ক্রমশ তীব্র হয়। গত এক সপ্তাহ ধরে ইব্রাহিম মিলন স্ত্রী ও শাশুড়িকে নিয়ে আলাদা বসবাসের চেষ্টা করছিলেন, যা পারিবারিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে।
শুক্রবার রাতে ঘটনার সময় আবু আহমদ স্থানীয় একটি দোকান থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তার ছেলে ইব্রাহিম মিলন লাঠি দিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় বাবার চিৎকার শুনে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তার স্ত্রী জরিনা বেগম। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারী তাকে ও মারধর করেন, এতে তার একটি হাতের হাড় ভেঙে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ইব্রাহিম মিলনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিহত ও আহতদের অবস্থা সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে দেওয়া হলো—
বিষয়
তথ্য
নিহত ব্যক্তি
আবু আহমদ (৬৫)
আহত ব্যক্তি
জরিনা বেগম
অভিযুক্ত
ইব্রাহিম মিলন (৩৫)
ঘটনার স্থান
পূর্ব অলিনগর বিশ্বটিলা, করেরহাট ইউনিয়ন
সময়
শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা
ঘটনার ধরন
পারিবারিক বিরোধজনিত সহিংসতা
নিহতের ছোট ভাই শাহ আলম জানান, তার ভাই ছিলেন শান্ত ও সহজ-সরল প্রকৃতির মানুষ। তবে ছেলের মাদকাসক্ত আচরণ ও পারিবারিক অশান্তি নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে উদ্বিগ্ন ছিলেন। এর আগেও একাধিকবার পারিবারিক ঝগড়ার সময় আবু আহমদ শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় প্রশাসনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক বিরোধ ও মাদক সংশ্লিষ্ট আচরণের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর মতে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ সময়মতো সমাধান করা গেলে এমন একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।
মন্তব্য