বগুড়া শহরের লতিফপুর কলোনি এলাকায় দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং ১০ লাখ টাকার আর্থিক বিরোধের জেরে আরিফ শেখ (৩৫) নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১০ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে লতিফপুর প্রীতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আরিফ শেখ স্থানীয় মো. আজিজ শেখের ছেলে।
এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
পূর্ব পরিকল্পনা ও ঘটনার বিবরণ
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ লাখ টাকার একটি বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রতিপক্ষের একটি প্রভাবশালী গ্রুপের সঙ্গে আরিফের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের সূত্র ধরে ঘটনার দিন বিকেল থেকেই প্রতিপক্ষের কয়েকজন যুবক আরিফকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল বলে তার স্বজনরা অভিযোগ করেছেন।
গভীর রাতে লতিফপুর প্রীতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে আরিফকে একা পেয়ে ওত পেতে থাকা হামলাকারীরা চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আরিফের শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই আরিফের মৃত্যু নিশ্চিত করে হামলাকারীরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। পরবর্তীতে রাত ১টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত মরদেহ রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে বগুড়া সদর থানা পুলিশকে অবহিত করেন।
পুলিশের তৎপরতা ও লাশ উদ্ধার
হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়া মাত্রই বগুড়া সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মরদেহের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষতচিহ্ন রয়েছে, যা থেকে স্পষ্ট যে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। নিহতের অপরাধমূলক অতীত এবং এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো গোপন শত্রুতা বা দলগত কোন্দল রয়েছে কি না, তা বের করতে পুলিশ তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছে।
নিহতের অপরাধের খতিয়ান ও তদন্তের অগ্রগতি
পুলিশ ও স্থানীয় বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, নিহত আরিফ শেখ কেবল একজন সাধারণ ব্যবসায়ী বা এলাকাবাসী ছিলেন না; তার বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বগুড়ার বিভিন্ন থানায় আরিফের বিরুদ্ধে হত্যা, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইন, মাদক ব্যবসা এবং ছিনতাইসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
“আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি। পরিবারের পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকার যে বিরোধের কথা বলা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি নিহতের অপরাধের অতীত রেকর্ডকেও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” — বগুড়া সদর থানা পুলিশ
মোঃ আব্দুস সবুর
বগুড়া
১১/০৭/২৬
০১৭১১-৩৪০৮৬৬









