কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার চরপলাশ গ্রামে মাদক ব্যবসার অভিযোগে আটক হওয়া তিন ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে এ দণ্ড কার্যকর করা হয়, যা এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদারের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুন সোমবার রাতে চরপলাশ গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে মাদক সংক্রান্ত গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা প্রশাসন ও পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানে তিনজনকে আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং স্থানীয় তরুণ সমাজের মধ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছিলেন।
পরবর্তীতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত জাহান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালত সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক তিনটি মামলা রুজু করেন। শুনানির সময় আটক ব্যক্তিরা তাদের অপরাধ স্বীকার করেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
স্বীকারোক্তি ও প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত প্রত্যেককে এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং একশত টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করেন। দণ্ড ঘোষণার পর মঙ্গলবার দুপুরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
সাজাপ্রাপ্ত তিনজন হলেন চরপলাশ গ্রামের কেনু খলিফার ছেলে রতন মিয়া, আসাদ মোড়লের ছেলে শাফুল মিয়া এবং গিয়াস উদ্দীনের ছেলে ফারজুল। স্থানীয়ভাবে তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিচে সাজাপ্রাপ্তদের পরিচয় সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| নাম | পিতার নাম | গ্রাম | দণ্ড |
|---|---|---|---|
| রতন মিয়া | কেনু খলিফা | চরপলাশ | এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড |
| শাফুল মিয়া | আসাদ মোড়ল | চরপলাশ | এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড |
| ফারজুল | গিয়াস উদ্দীন | চরপলাশ | এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড |
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, চরপলাশসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ ছিল। এ ধরনের অভিযানের মাধ্যমে প্রশাসন অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
পাকুন্দিয়া থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম আরিফুর রহমান জানান, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিতভাবে চলমান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, শুধু আটক বা শাস্তি নয়, বরং মাদক সরবরাহ চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে এলাকার তরুণ সমাজকে রক্ষায় নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত বিচার ও দণ্ডাদেশের কারণে এলাকায় একটি শক্ত বার্তা পৌঁছেছে, যা ভবিষ্যতে মাদক ব্যবসার প্রবণতা কমাতে সহায়ক হবে। অনেকেই মনে করেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে সমাজে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।
সামগ্রিকভাবে, এই দণ্ডাদেশকে স্থানীয় প্রশাসনের মাদকবিরোধী কঠোর অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
