পাকুন্দিয়ায় ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে দুই নিহত

কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলায় মালবাহী ট্রাক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মধ্যে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন এবং আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে শ্রীরামদী এলাকায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের আলু সংরক্ষণাগারের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং কিছু সময়ের জন্য সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ভোরের দিকে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জগামী একটি দ্রুতগতির মালবাহী ট্রাক ওই সড়ক দিয়ে অগ্রসর হচ্ছিল। একই সময়ে বিপরীত দিক থেকে আসছিল একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। শ্রীরামদী সরকারি হিমাগার এলাকার সামনে পৌঁছালে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয় এবং চাপা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি সম্পূর্ণভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

ঘটনাস্থলেই দুই যাত্রী প্রাণ হারান। আহত তিনজনকে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আহতদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক ছিল এবং তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

নিহতদের পরিচয়ও নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন পাকুন্দিয়া উপজেলার চণ্ডিপাশা গ্রামের রুস্তম আলীর ছেলে বাদল মিয়া (৪৫) এবং হোসেনপুর উপজেলার দাপুনিয়া গ্রামের শামছুদ্দিনের ছেলে ইছাম উদ্দিন (৫০)।

দুর্ঘটনায় হতাহতদের তথ্য নিচে উপস্থাপন করা হলো—

নামবয়সঠিকানাঅবস্থা
বাদল মিয়া৪৫চণ্ডিপাশা, পাকুন্দিয়ানিহত
ইছাম উদ্দিন৫০দাপুনিয়া, হোসেনপুরনিহত
তিনজন যাত্রীঅজ্ঞাতবিভিন্ন এলাকাগুরুতর আহত

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, অটোরিকশার যাত্রীরা মূলত বরশি দিয়ে মাছ ধরার কাজে ব্যবহারের জন্য পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধার কাজে অংশ নেন এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম আরিফুর রহমান দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ট্রাকচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে। তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ওই সড়কটি অত্যন্ত ব্যস্ত একটি রুট, যেখানে ভোরের দিকে ভারী যানবাহনের চাপ বেশি থাকে। বিশেষ করে দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি এবং নিয়ন্ত্রণ হারানোই এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হতে পারে। তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত নজরদারি বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।