জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুলাই ২০২৬, ৭:২৪ পিএম

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের কোদালের আঘাতে বড় ভাই নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর পুলিশ নিহতের শাশুড়ি ও দেবরের স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে। তবে মামলার প্রধান আসামি নিহতের ছোট ভাই মো. জামাল উদ্দিন সুমন এখনো পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত ব্যক্তি মো. নেজাম উদ্দিনের বয়স ৩৮ বছর। তিনি পেশায় একজন মুদি দোকানদার এবং বোয়ালখালী উপজেলার শাকপুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম শাকপুরা এলাকার ঘোষখীল গ্রামের আছু তালুকদার বাড়ির বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ওই এলাকার মৃত আবদুল হালিমের বড় ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে বাড়িতে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে নেজাম উদ্দিন ও তার স্বজনদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তার ছোট ভাই জামাল উদ্দিন সুমন কোদাল দিয়ে নেজাম উদ্দিনকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বোয়ালখালী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নেজাম উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোছাম্মৎ পারিয়া তানহা মাইমা বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে বোয়ালখালী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় নিহতের ছোট ভাই মো. জামাল উদ্দিন সুমনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তার পাশাপাশি নিহতের শাশুড়ি হালিমা বেগম, বয়স ৭০ বছর, এবং দেবরের স্ত্রী সানজিদা আক্তার পপি, বয়স ২৬ বছর, আসামি হিসেবে রয়েছেন।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে হালিমা বেগম ও সানজিদা আক্তার পপিকে গ্রেফতার করে। তবে মামলার প্রধান আসামি জামাল উদ্দিন সুমনকে এখনো গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তাকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন জানান, হত্যা মামলায় গ্রেফতার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রধান আসামি জামাল উদ্দিন সুমনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ঘটনাটি পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেলেও বিরোধের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে পুলিশ বিস্তারিত কিছু জানায়নি। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো বিষয় ছিল কি না, মামলার তদন্তে তা খতিয়ে দেখা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, নেজাম উদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের কাছে ঘটনাটি আরও বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে এমন প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। একটি পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিরোধ কীভাবে সহিংসতায় রূপ নিল, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্তের পাশাপাশি পলাতক প্রধান আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তাকে আটক করা গেলে হত্যাকাণ্ডের সময়কার পরিস্থিতি, বিরোধের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না—এসব বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে গ্রেফতার দুই আসামির ভূমিকা ও তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত মামলার সব আসামিকে আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করার বিধান রয়েছে।
মন্তব্য