জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুলাই ২০২৬, ৭:৩২ পিএম

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলায় জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে আটক করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় জারি হওয়া পরোয়ানার ভিত্তিতে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর তাকে সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়া হয়েছে।
এর আগে একই দিন সকালে রাজধানীর শাহবাগ থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় আদালতে হাজিরা দেন সাবেক এই মন্ত্রী। আদালতে হাজিরা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানিয়েছিলেন, তাকে গ্রেফতার করা না হলে আগামী সপ্তাহের রোববার অথবা সোমবার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে দায়ের করা ‘হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের’ মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করবেন।
তবে তার সেই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে গুলশানের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে ও পরবর্তী সময়ে সংঘটিত ঘটনাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও আইনগত বিতর্ক রয়েছে। ওই সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান, হতাহতের সংখ্যা এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন দাবি উঠে আসে। সাম্প্রতিক সময়ে এসব ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে নতুন করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাটিও ওই সময়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে। মামলায় হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
গ্রেফতারের আগে আদালতে হাজিরা দেওয়ার সময় লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্যে আত্মসমর্পণের ইচ্ছার কথা উঠে আসায় তার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ডিবির অভিযানে গ্রেফতারের পর সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে।
এখন তাকে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালত ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনগত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে কী ধরনের তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া যায় এবং মামলার পরবর্তী কার্যক্রম কোন দিকে এগোয়, তা-ই এখন দেখার বিষয়।
লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগের প্রবীণ রাজনীতিক এবং সাবেক মন্ত্রী হিসেবে দীর্ঘদিন দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তবে বিভিন্ন সময়ে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বক্তব্য নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। শাপলা চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা বর্তমান মামলায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখন সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।
মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী একজন আসামিকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।
মন্তব্য