জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুলাই ২০২৬, ৯:৬ পিএম

ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া হাবুন ব্যাপারী এলাকায় ২০১৯ সালে শফিকুল ইসলাম শপু হত্যা মামলায় তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী আফরোজা শেখ ইতিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাঁকে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহের বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন। মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা দেন। একই মামলার অপর আসামি দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, শফিকুল ইসলাম শপু প্রথমে মাহমুদা আক্তার ঝুমুকে বিয়ে করেন। তাঁদের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর তাঁরা নগরীর বাঁশবাড়ি কলোনি এলাকায় বসবাস করতেন। পরে শপুর সঙ্গে আফরোজা শেখ ইতির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ইতি তাঁকে বিয়ে করেন এবং তাঁরা আলাদা বাসায় বসবাস শুরু করেন।
দ্বিতীয় বিয়ের পরও শপু তাঁর প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং মাঝে মাঝে দিনের বেলায় তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে যেতেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিষয়টি ইতি ভালোভাবে নিতেন না। প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখলে শপুকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়।
পরিস্থিতির একপর্যায়ে শপুর মা ঝুমু ও তাঁর নাতিকে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসায় এনে রাখেন। এ ঘটনায়ও ইতি অসন্তুষ্ট হন এবং তাঁদের বাসা থেকে বের করে দেওয়ার জন্য শপুকে চাপ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বিরোধ ও ঝগড়া হতো।
২০১৯ সালের ১০ জুন সন্ধ্যায় মায়ের বাসা থেকে খেয়ে আসা নিয়ে ইতির সঙ্গে শপুর কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর থেকেই শপু নিখোঁজ হন। তাঁর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ইতি নিজেই কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
তিন দিন পর, ১৩ জুন আকুয়া মোড়লপাড়া হাবুন ব্যাপারী এলাকার একটি পচা পুকুরে কচুরিপানার ভেতর থেকে শপুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়। ওই দিনই শপুর মা নুরুন্নাহার বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আফরোজা শেখ ইতি ও তাঁর ভাই দ্বীন ইসলামকে আসামি করা হয়। পরে পুলিশ ইতিকে গ্রেফতার করে।
মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। বিচার চলাকালে সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ এবং উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শুনে আদালত আফরোজা শেখ ইতিকে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করেন। অপরদিকে, তাঁর ভাই দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাঁকে খালাস দেন।
রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে প্রায় ছয় বছর আগে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো। আদালতের রায়ে নিহত শফিকুল ইসলাম শপুর পরিবারের জন্য দীর্ঘদিনের বিচারপ্রত্যাশারও অবসান ঘটল।
মন্তব্য